ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের নতুন প্রধান হিসেবে ইয়োসি কোহেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ৯ ডিসেম্বর এ ঘোষণা দেন। তারপরই তাকে ঘিরে বিশ্ব মিডিয়ার আগ্রহের সৃষ্টি হয়। কেননা, ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত কুখ্যাত ইহুদি গোয়েন্দা সংস্থাটি কখনোই তাদের চিফের নাম প্রকাশ করেনি।
এই ঘোষণার ফলে ৫৪ বছর বয়সি কোহেন আসছে জানুয়ারিতে প্রাক্তন প্রধান তামারো পার্দো’র স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন।
তবে কোহেনের নিয়োগ প্রক্রিয়া মোটেও সহজ ছিলোনা। মোসাদের তিন দফা বাছাই প্রক্রিয়া শেষে তবেই এই পদে তাকে আসতে হয়েছে। এ গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদের জন্য তাকে লড়তে হয়েছে মোসাদেরই সাবেক ডেপুটি প্রধান রাম বেন-বরাকের সঙ্গে।
যিনি বর্তমানে মোসাদের তথ্য শাখার প্রধান হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। রাম বেন-বরাকের সঙ্গে চেয়ারের লড়াইয়ে পেরে না ওঠার কারণ হিসেবে কোহেনের জ্ঞান এবং বিচার-বিচেনা খুবই সূক্ষ্ম বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগ দেওয়ার পর নেতানিয়াহু কোহেনকে স্পাইমাস্টার (গোয়েন্দা শিক্ষক) উল্লেখ করে বলেন, ‘ইহুদীদের গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে তাকে বিবেচনা করার কারণ তার অতীত, অর্জন এবং সম্পদ।’
মোসাদে যোগদানের আগে কোহেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে ১৯৮৩ সালে অবসরের পর আসেন মোসাদে। যোগদানের পর খুব দ্রুতই তিনি নিজের দক্ষতা প্রমাণে সক্ষম হন। অল্প সময়ের মধ্যে মোসাদের সোমেদ ডিভিশনের প্রধানের দায়িত্ব পান। ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মোসাদের এজেন্ট নিয়োগ থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিলো তার হাতে।
এই পদে দায়িত্ব পালনকালে ২০১১ সালে কোহেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তায় অবদান রাখার জন্য ‘ইসরাইল ডিফেন্স প্রাইজ’ লাভ করেন। এরপরই তিনি মোসাদের ডেপুটি চিফ মনোনীত হন।
জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করলেও কোহেন এখন তেল আবিব থেকে ৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণের শহর মডিনে বসবাস করছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত কোহেন চার সন্তানের জনক। বিভিন্ন প্রতিবেদনে কোহেনকে ধার্মিক এবং আচার নিষ্ঠ ইহুদি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোসাদ এমন একটি সংগঠন যেটি কিনা শুধু মাত্র প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের কাছেই দায়বদ্ধ থাকে। তাদের দেশে এমনকি দেশের বাইরেও অভিযান পরিচালনা করা অনুমতি রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় তাদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ নানা ধরণের অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮ সালে লেবাননে হিজবুল্লাহর অন্যতম নীতি-নির্ধারক নেতা ইমাদ মুগনিয়ার হত্যার পেছনে মোসাদের হাত রয়েছে বলে প্রচার আছে।
১৯৪৯ ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের হাত ধরে মোসাদের যাত্রা শুরু। বিশ্বের কুখ্যাত এই গোয়েন্দা সংস্থাটির সদরদপ্তর নিরাপত্তার চাদরে ঘেরা এমনকি তারা তাদের গোপনীয়তা ধরে রাখতে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কোন ফোন কিংবা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয় না। সংস্থাটির বিভিন্ন ডিভিশনে ১১জন চিফ রয়েছেন যারা পাঁচ তারকা জেনারেলের পদমর্যাদা ভোগ করেন।
২০১১ সালে মোসাদের ডিপুটি চিফ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৩ সালে এই পদ ছেড়ে আসেন কোহেন। তারপর থেকে তিনি নেতানিয়াহুর আস্থাভাজন হিসেবে বৈদেশীক নীতি নির্ধারণের কাজ করে আসছিলেন।







