প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ কেউ সরকারকে উৎখাতের কথা বলছে। তারা দল-টল করার চেষ্টা করছে। নানা কথা বলছে। কিন্তু আমাদের অপরাধটা কী? আমরা কোথায় ব্যর্থ হয়েছি?
‘‘জিয়া, এরশাদ, খালেদা, তারেক- সবাই মানুষ হত্যা করেছে। মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে। আমরা তা করিনি। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। দারিদ্র্য কমেছে।’’
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে ৫টায় গণভবনে কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে অনেকেই বিদেশের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু আজকের বাংলাদেশে সেই বাস্তবতা নেই।
‘‘কারো কারো ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আছে। কিন্তু জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার সাহস নেই। সংগঠন করার সামর্থ্য নেই। তারা চাইবে দেশ অস্থিতিশীল হোক। তাই এসব বিষয়ে দেশবাসীসহ দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে।’’
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী যে মন্দা দেখা দিচ্ছে, তা ব্যাপকভাবে বাড়তে পারে। তার প্রভাব আমাদের ওপরে আসতে পারে। কাজেই আমাদের এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে সেভাবে আমাদের এখানে দাম বাড়েনি। আর জিনিসপত্রের দাম সারা বিশ্বের বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের হিসাব নিলে দেখা যাবে কোথাও কোথাও ১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।
তিনি বলেন, ইউরোপের কোনো কোনো দেশে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি রয়েছে। ভোজ্যতেল পাওয়া যাচ্ছে না। লন্ডনে রেশনিং করে দেওয়া হয়েছে। এক লিটারের বেশি কেউ তেল কিনতে পারবে না। প্রত্যেকটা জিনিস সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিতে হবে। এর বেশি নিতে পারবে না। সারা বিশ্বে এ অবস্থা।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিপিংয়ের ভাড়া এত বেড়ে গেছে যে যেসব দেশ থেকে আমরা পণ্য আমদানি করি, সেই আমদানির ওপর প্রভাব পড়ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর তার প্রভাব ইউরোপ-আমেরিকার ওপরও পড়েছে।’
ভোজ্যতেল দেশে উৎপাদন সম্ভব
উদ্যোগ নিলে ভোজ্যতেল দেশে উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে ধানের তুষ দিয়ে তেল উৎপাদন হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় সংশ্লিষ্টদের দেশে ভোজ্যতেল উৎপাদনের দিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।
জুলাইয়ে আরো ৩৪ হাজার পরিবারের মাথা গোজার ঠাঁই হবে
আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় আগামী জুলাই মাসে আরও ৩৪ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেয়া হবে বলে জানান সরকার প্রধান।
শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চেয়েছিলেন এদেশের সব মানুষ ঘর পাবে। তাদের থাকার জায়গা থাকবে। দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারবে। তিনি নিস্ব, অসহায় ও দুস্থদের আশ্রয়ের ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। তার ওই আশ্রয় শব্দ ঘিরেই এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘আশ্রয়ণ’।”
ঈদুল ফিতরের আগে প্রায় ৩৩ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর দেয়ার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের আগে ৩৩ হাজার ঘর দিয়েছি। জুলাই মাসে আরও ৩৪ হাজার দেব। বাকি থাকবে ৪৫ হাজার। তা-ও দিয়ে দিলে দেশে ভূমিহীন কেউ থাকবে না। আমরা চাই, বাংলাদেশে একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’
আওয়ামীলীগ পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেনি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কখনও ভোটে পেছনে ছিল না। নানা ষড়যন্ত্র করে ভোটে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আমরা এগিয়েছি। পারসেন্টেজ বেশি ছিল। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তাদের (বিরোধীদের) কুকর্ম মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, জিয়া, এরশাদ, খালেদা, তারেক সবাই মানুষ হত্যা করেছে, জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। এদের সময় ক্ষমতা ছিল ক্যান্টনমেন্টে, পাকিস্তানি স্টাইলে মিলিটারি ডিক্টেটরশিপ চালু করেছিল। পরাধীনদের অনুসরণ করব না। নিজস্বভাবে দেশের উন্নয়ন করব, মাথা উঁচু করে চলব।
শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা
বৈঠকের শুরুতেই ৭ মে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশে ফেরা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতিকে শেখ হাসিনাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের নেতারা। ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর চিকিৎসার জন্য বিদেশ গিয়েছিলেন তিনি। এরপর সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাধা উপেক্ষা করে ওই বছরের ৭ মে দেশে ফেরেন তিনি।








