কুয়েত সেনাবাহিনী নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিলেও দেয়নি অস্ত্র ব্যবহারের অধিকার। তাই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে দেশটির নারী সমাজ।
দ্য ডিফেন্স পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েতে নারী সেনারা যুদ্ধে অংশ নিতে পারবে, তবে তারা অস্ত্র বহন করতে পারবে না। যদি তারা অস্ত্র রাখতেও চায়, তারজন্য একজন পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
এছাড়া দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাধারণ নারীদের মতো নারী সৈন্যদেরও মাথা ঢেকে রাখতে হবে।
সক্রিয়কর্মীরা এ সিদ্ধান্তকে এক ধাপে এগিয়ে, দুই ধাপ পিছিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থান বলে মনে করছে।
কুয়েত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এর নারী কমিটির সদস্য এবং ক্রিড়া শিক্ষক ঘাদীর-আল-খাশ্তি বলেন, সেনাবাহিনীতে যোগদানে এসব বিধিনিষেধ কেন প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি না। পুলিশ ফোর্সসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এখন নারীদের বিচরণ রয়েছে।
খাশ্তি বলেন, স্বৈরশাসক সাদ্দাম হুসেইন যখন কুয়েত আক্রমণ করে তখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট দ্বারা তাকে তাড়িয়ে দেয়ার আগেকার ৭ মাস দেশের অন্য নাগরিকদের সাথে তাকে প্রতিহত করতে আমার মা সাহায্য করেছিলেন। আমার মা তার আবায়ার ভেতরে অস্ত্র লুকিয়ে প্রতিহতকারী দলের সদস্যদের কাছে তা পৌঁছে দিতেন এবং আমার বাবা একাজে তাকে উৎসাহিত করতেন। তাই আমি বুঝতে পারছি না কীসের ভিত্তিতে তারা নারীকে দুর্বল মনে করছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত অক্টোবরে কুয়েত নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় তবে রক্ষণশীল দলের আইনপ্রণেতা হামদান-আল-আযমি এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করলে এরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
হামদি ইসলাম ধর্মের ফতোয়া দিয়ে বলে, নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার বিষয়টা নারী প্রকৃতির সাথে মানানসই নয়।
কুয়েত উইমেন’স কালচারাল এন্ড সোশ্যাল সোসাইটির প্রধান লুলওয়া সালেহ-আল-মুল্লা বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক। আমরা সংগঠনের মাধ্যমে এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
তিনি বলেন, আমাদের নারী শহীদ আছেন যারা নিজেদের ইচ্ছাই যুদ্ধে অংশ নিয়ে জীবন দিয়েছে। তারা কেবল দেশকে ভালোবেসেই এই কাজ করেছে, তাদের কেউ বলে দেয়নি।
বিপদ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু কোনোটাই নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্য করে না বলে জানান তিনি।








