কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অন্তত ৫ জন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংবাদকর্মীদের দাবি, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু চলমান কার্যক্রমের তথ্য নিতে গেলে কর্মকর্তারা তাদের অসহযোগিতা করেন।
জাতীয় দৈনিকের এক সংবাদকর্মী অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারণ প্রকল্পের দরপত্র প্রকাশের তারিখ, প্রকল্প ব্যয়, প্রকল্পটি শেষ হওয়ার সময়সীমাসহ সংশ্লিষ্ট কিছু মৌলিক তথ্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. শাহাবুদ্দীন এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাছির উদ্দিনের কাছে গেলে, বারবার তারা বিভিন্ন অজুহাতে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতা করেছেন।
তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করা হলে উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের অনুমতি লাগবে এবং অনেক সময় সরাসরি অপারগতা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ করেন অপর এক সংবাদকর্মী।
অবাধ তথ্য প্রবাহ ও জনগণের তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণের নিমিত্তে তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ প্রণয়ন হয়েছে। আইনের ৪নং ধারায় উল্লেখ আছে, ‘কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার থাকিবে এবং যেকোনো নাগরিকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাহাকে তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে।’
এই আইনের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তাদের এমন অসহযোগিতাকে জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।
তথ্য প্রদানে অনিহা দূরভিসন্ধিমূলক এবং কোনো অনিয়ম ধামাচাপা দেয়ার জন্য হতে পারে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ছাড়া সব তথ্য দিতেই বাধ্য তারা। তারা তথ্য না দিলে প্রতিবাদ করতে হবে এবং আইনের আশ্রয় নিতে হবে। এটা আইনী অধিকার।’
তথ্য প্রাপ্তিতে এমন অসহযোগীতা পেলে তিনি ও তার সংগঠন সহযোগিতা করবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের তথ্য দেয়ার বিষয়ে প্রতিবন্ধকতাতো নতুন নয় মন্তব্য করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন: ‘নিজের স্বার্থে নয়, সাংবাদিকরা জনগণের স্বার্থে কাজ করে থাকেন। তথ্য প্রাপ্তি হলো অধিকার।’
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কতটুকু কাজ হচ্ছে, কী রড দিয়ে কাজ হচ্ছে এ বিষয়ে অফিসিয়াল ডকুমেন্ট দেয়া যায় না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ‘এসব তথ্য দেয়া যাবে না’ এমন কথা উল্লেখ আছে কী না, এ প্রশ্নের উত্তরে ড. তাহের বলেন, ‘এসব বিষয় আইনে উল্লেখ থাকে না, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকৌশল।’








