জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক দল জামায়াত-ই-ইসলামিকে (জেইআই) নিষিদ্ধের কয়েকদিন পরই দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বাসভবন সিলগালা করে দিয়েছে কাশ্মীর কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার জেইআই’কে পাঁচ বছরের জন্য বেআইনি সংগঠন ঘোষণা করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই দিনই ম্যাজিস্ট্রেটরা জেইআইয়ের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠান এবং সম্পত্তি সিলগালা করার আদেশ জারি করেন।
গত চার দিনে দলটির দুই শতাধিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ভারত সরকারের অভিযোগ, জেইআইয়ের সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর ঘনিষ্ঠতা ছিল এবং এরা জম্মু-কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
গত দুই সপ্তাহে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামের অনেক নেতাকর্মীকে তুলে নিয়ে যায় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতে বাস করে পাকিস্তানি মতাদর্শ ধারণ, পাকিস্তানি অর্থায়নে রাজনীতি ঘোলা করা জম্মু এবং কাশ্মীরে সহ্য করা হবে না বলে জানিয়ে দেয় দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। তার ধারাবাহিকতায় কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত ইসলামের রাজনীতি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ সদস্যদের ওপরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় প্রাণ হারান ৪০ জনের বেশি ভারতীয় আধাসামরিক সেনা। এরপর গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টা নাগাদ ভারতের ১২টি মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান পাক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাহায্যে এক হাজার কেজি বোমাবর্ষণ করে।
এ হামলার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে নিরাপত্তা সম্পর্কিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনে এ সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজ্যের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল- পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) এবং ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি) এই দলকে নিষিদ্ধ করা নিয়ে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। পিডিপির প্রধান মেহবুব মুফতি বলেন, ‘জামায়াত-ই-ইসলামিকে নিয়ে সরকারের এত অস্বস্তি কেন? মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীগুলো আসলে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে বিকৃত করে ফেলছে। অথচ কাশ্মীরিদের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানকেই নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।’
ন্যাশনাল কনফারেন্সের সাধারণ সম্পাদক আলী মোহাম্মদ সাগরও কেন্দ্রের এ সিদ্ধান্তে বিরক্ত। তিনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এ সিদ্ধান্ত রাজ্যের শান্তি ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।








