সীমান্তের উত্তেজনা নিয়ে অনেকদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তানের সম্পর্ক একেবারে তলানিতে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই একে-অপরের বিরুদ্ধে সীমান্ত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। এতে দুদেশেই সামরিক-বেসামরিক মানুষ মারা যাচ্ছে। যার সূত্র ধরে দুদেশের ক্রিকেট নিয়ে নতুন বছরেও কোন সুখবর শোনা গেল না। ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণ ঝুলে থাকল সেই কাঁটাতারেই।
২০১৪ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ছয়টি সিরিজ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ভারতের অনাগ্রহে এখনপর্যন্ত এর একটি সিরিজও হয়নি। যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিসিসিআই’র কাছে ৭০ মিলিয়ন ডলার চেয়েছে পাকিস্তান। সেজন্য একটি মামলাও করেছে পিসিবি।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না থাকায় আইসিসির নতুন ট্যুর প্রোগ্রাম নিয়েও বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। পিসিবি বলছে, তারা ট্যুর প্রোগ্রাম নিয়ে চ্যালেঞ্জ করবে। কিন্তু ভারত আবারও পরিষ্কার করে বলছে, দুদেশের মধ্য কোনও সিরিজ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সেটা ভারত-পাকিস্তানের মাটিতে তো নয়ই, এমনকি নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও নয়।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ দুদেশের ক্রিকেটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন। দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার উপদেষ্টা মণ্ডলীর এক বৈঠকে ওই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুষমা। বৈঠকে উপস্থিতি ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শঙ্করও।
কয়েকমাস ধরে ভারত-পাক বৈদেশিক সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুদিন আগেও পাকিস্তানের গুলিতে এক ভারতীয় সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তার আগে ভারতীয়দের গুলিতে নিহত হয়েছে পাকিস্তানের সেনাও। এই অবস্থায় ক্রিকেট দিয়ে দুদেশের উত্তেজনা কি কমানো যায়? এমন এক প্রশ্নের উত্তরে সুষমা স্বরাজ সাফ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে কোন ক্রিকেট সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘যেভাবে সীমান্তে পাকিস্তান গুলি চালাচ্ছে, তাতে ক্রিকেট কোনভাবেই সম্ভব নয়।’
সুষমার বক্তব্যের পর পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা জিও নিউজকে বলেছেন, ‘আমি এই বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্যের মানে বুঝি না। ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা এক দেশের জনগণকে অন্য দেশের জনগণের সাথে যোগাযোগ করার অনুমতি দেবে না।’
রমিজ রাজার মত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক দুই তারকা সিকান্দার বখত ও শোয়েব আকতারও।








