এই আছেন, এই নেই! এর আগেও একাধিকবার এমন হয়েছে। এটাই যেন শবনম বুবলীর বৈশিষ্ট! খেয়াল করা গেল, সপ্তাহ তিনেক ধরে তার মুঠোফোন সচল কিন্তু ফোন করলে ধরছেন না। নিজের ফ্যানপেজেও সক্রিয়। মুঠোফোনে ম্যাসেজ পাঠালে কোনো প্রতিউত্তর আসছে না! এরমধ্যেই বুবলীকে জড়িয়ে বিভিন্ন খবর রটেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে! সত্যতা জানতেই কয়েকদিন ধরে বারবার চেষ্টা করা হয় বসগিরি, পাসওয়ার্ড, বীর ছবির এ নায়িকার মুঠোফোনে। কিন্তু পাওয়া যায়নি তাকে। অবশেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে বুবলী তার ফোন রিসিভ করলেন। অল্প কথায় যা আলাপ হলো বুবলীর সঙ্গে…
আপনাকে ফোন করলে পাওয়া যায় না কেন?
এটা আসলে সঠিক না, পরিচিত অনেকেই পায় আমাকে ফোনে আর যে কেউ ফোন করলেই আমাকে পাওয়া যাবে এটাই বা কেন? শুটিংয়ের বাইরে, পেশাগত জীবনের বাইরে আমার ব্যক্তিজীবন বলেও কিছু আছে। যেখানে একটু নিজের মত থাকতে ইচ্ছা হয়। যা প্রত্যেক মানুষেরই থাকে। কেউ যদি ভাবে শুটিং নেই, আমি শুধু ফোন নিয়ে বসে আছি ফোন ধরবো বলে, এটা তো হয়না। যদিও কাজ সংক্রান্ত যে কোনো ফোন আমি তাৎক্ষণিক কোনো কারণে রেসপন্স করতে না পারলেও পরে রেন্সপন্স করি। আর ফোনের ব্যাপারে আমি একটু কেয়ারলেস। যা আমার সাংবাদিক ভাইয়েরা জানেন। তাই তারা এখন ব্যাপারটা স্বাভাবিক ভাবে নেন। জরুরি কিছু হলে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে রাখে, পরে কথা বলে নেই। এটা আসলে কখনই ইচ্ছাকৃত না। কিন্তু ফোন কলের ব্যাপারে আমার আসলেই এলার্জি আছে মনে হয়। সেক্ষেত্রে ক্ষুদে বার্তা আমার কাছে বেস্ট অপশন।
কেউ বলছে ঢাকা, কেউ বলছে দেশের বাইরে। আপনি আসলে আছেন কোথায়?
আমি বাসাতেই আছি। অনেক হোম লাভার একজন মানুষ। যার কাছে নিজের বাসা স্বর্গের মত। খুব বাসায় থাকতে পছন্দ করি। এটা অনেক আগেই বলেছি অনেক জায়গায়। আমার শুটিং থাকলে আমি শুটিংয়ের সেটে থাকি। এছাড়া আমাকে হয়তো কেউ ওভাবে কোথাও পায় না। যে কোনো ছবির কাজ শেষ করে আমি নিজের মত পরবর্তী কাজের জন্য নিজেকে সময় দেই, প্রস্তুত করি। তাই যে কোনো ছবির কাজ শেষ হলে, অনেকে যোগাযোগ করে না পেলে তখন বলে আমি উধাও, পাচ্ছে না। দেশে নাকি বিদেশে, এই সেই অনেককিছু রটে যায়। কিছুদিন আগেও ‘উধাও হয়ে গেছি’-এরকম বলেছিল অনেকে। আমি বলেছিলাম নতুন ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরপর ঠিকই কিন্তু ‘বীর’ এবং ‘ক্যাসিনো’ দুটি নতুন ছবির শুটিং শেষ করেছি। গত বছরও একই কাহিনি। একটু বিরতি নিয়ে পরে ‘পাসওয়ার্ড’ এবং ‘মনের মত মানুষ পাইলাম না’ ছবির কাজ করেছি। তাছাড়া পেশাগত কাজের জন্য যে কেউ আমাকে পায় ফোনে তা সাংবাদিক হোক বা ছবি সংক্রান্ত মানুষজন হোক।
আপনার পরিবার থেকেও নাকি বলা হয়েছে আপনি দেশের বাইরে যাবেন বা গেছেন?
আসলে কাজের চাপ একটু কম থাকলে পরিবারসহ দেশের বাইরে ঘুরতে যাই কয়েকদিনের জন্য। নতুন নতুন খাবার, নতুন জায়গা, নতুন কালচার এক্সপ্লোর করতে আমার ভালো লাগে। আব্বু আম্মুসহ আমার বোনেরা দুলাভাইসহ তাদের বাচ্চারাও থাকে এসব ভ্রমণে। এবার বড় আপুর বাচ্চাটা একটু অসুস্হ হয়ে গিয়েছিল তাই মাঝে ওরা সিংগাপুরে গিয়েছিল। কারণ আপুরাও তো ওদের জীবন নিয়ে ব্যস্ততায় থাকে তাই ভেবেছিলো হয়তো এর মধ্যে আমি আম্মুকে নিয়ে যাচ্ছি কিনা ঘুরতে। তাই হয়তো ওভাবে কোথাও কাউকে বলেছিল। গত বছর যেমন আমরা সবাই শুরুর দিকে মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। মাঝের দিকে লন্ডন গিয়েছিলাম এবারও ওরকম পরিকল্পনা আছে। এখনও বলতে পারছি না।
বেশ কিছুদিন আপনার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে…?
এসব আর নতুন কী, গুঞ্জন শব্দটাই তো গুঞ্জন। দেখুন পেশাগত জীবনের বাইরে কখনও আমি আমার ব্যক্তিজীবন সামনে আনিনি বা কথা বলিনি বা এসব নিয়ে কথা বলে মন্তব্য করে কখনও কোনো অ্যাটেনশন পেতে চাইনি। আর ঘটনার পেছনেও তো অনেক ঘটনা থাকে এবং সময় তার সময়মতই কথা বলে। তাই কাজের বাইরে এসব গুঞ্জন নিয়ে আপাতত ভাবছি না।
কেন এমনটা হচ্ছে?
মিডিয়াতে কেউ কাজ করবে আর এমন গুঞ্জন গুজব এসব হবে না তা কী করে হয়। এটা তো অস্বাভাবিক কিছু না। এরকম যুগ যুগ ধরেই হয়ে আসছে পৃথিবীর সব মিডিয়াতে।
‘বীর’ যারা দেখেছে, তারা কেউ কেউ বলছেন, ছবিতে আপনার শারীরিক গড়ন দু-এক সিকোয়েন্সে অন্যরকম লেগেছে। কী বলবেন?
আসলে বীরের জন্য আমাকে কিছু ওজন বাড়াতে হয়েছিল। কারণ আমার চরিত্রটিই ছিল খুব সাধারণ একটি মেয়ে, যাকে প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে আসা হয়। চরিত্রের জন্য আমাদের ওজন বাড়ানো কমানো সবই করতে হয়। সেজন্য কারো কাছে অন্যরকম লাগতে পারে। চিন্তার কারণ নেই, কিছুদিন পরেই পরের ছবির জন্য আবার ওজন কমিয়ে আগের বুবলী হয়ে আসছি। মজার একটা জিনিস শেয়ার করি, ‘সুপারহিরো’ ছবির গানে একটি ড্রেস এবং ক্যামেরার অ্যাংগেলের সমস্যার কারণে তখন নানান কথা উঠেছিল। কই তারপর তো সবই ঠিকঠাক!
সিনেমার মতো শাকিব খান-বুবলীর ব্যক্তিগত ব্যক্তি জীবন আলোচিত। এ রকমটা কেনো?
এটাই একটা জুটির স্বার্থকতা। দেখুন প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউবসহ টেলিভিশনে কত কত চ্যানেল নিয়ে মানুষ ব্যস্ত, তার ওপর তাদের নিজেদের জীবন তো আছেই। তাও যে শাকিব খান আর বুবলী নিয়ে মানুষ এতো সময় ব্যয় করে এটা আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা। আমরা কিন্তু কেউই কোথাও কোনো স্টেটমেন্ট দেই না বা কোনো অনুষ্ঠানে কেউ কাউকে নিয়ে কথা বলে আলোচনায় থাকতে চাই না। এমনকি কোনো ভিডিওধারণ করেও দুজন ভাইরাল হতে চেষ্টা করছি না, যে যার মত পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করছি। মানুষ কোনো একটা কেমিস্ট্রি আমাদের মধ্যে খুঁজে পায় তাই হয়তো এমন করে। আমি এটাকে পজেটিভ ভাবেই দেখি।
ছবি: তানভীর আশিক








