আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসুতে শনিবার এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত তিনশ’ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন পাঁচ শতাধিক। বিধ্বংসী বিস্ফোরণে এমন মানবিক সংকট এর আগে কখনও দেখেনি মোগাদিসুবাসী।
মোগাদিসুর আমিন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের পরিচালক আবদুল কাদির আবদিরহাম কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন: দিনটি ছিল সুন্দর অন্য যেকোন দিনের মতো স্বাভাবিক একটি দিন। খুবই শান্ত এবং চারদিকে কোন কাজের কোলাহল ছিল না। আমি আমার অফিসের ডেস্কে বসে ছিলাম। ঘটনাস্থল আমার অফিস থেকে এক কিলোমিটারের মতো দুরত্বে অবস্থিত।
‘হঠাৎ করে আমি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ পাই। তারপরেই চারপাশের সবকিছু কেঁপে ওঠে। এর আগে এতো উচ্চশব্দের কোন কিছু আমি শুনিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় আকাশ ভরে যায়। এর মধ্যে সূর্যের আলোও পৌঁছাতে পারছিলো না। এরপর আমি আমার টিমের সদস্যদের ফোন করি এবং তাদের কী করতে হবে সে সম্পর্কে তাদেরকে আর কিছু বলতে হয়নি। কী ঘটেছে আমরা সবাই তা আন্দাজ করতে পারছিলাম। পরে আমরা রুদ্ধশ্বাসে সবাই ধোঁয়া উঠা স্থানের দিকে ছুটতে থাকি।’
২০০৮ সালে ‘আমিন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠিত হবার পর থেকে এখন পর্যন্ত তারা এই ধরনের কোন বিস্ফোরণ দেখেননি। এমনকি তিনি স্বপ্নেও এমন বিস্ফোরণ হবে তা অনুধাবন করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন: সব জায়গায় মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল। যেদিকে তাকাচ্ছেন দেখতে পাচ্ছেন আহত লোকজন বাঁচার জন্য সাহায্য চাচ্ছেন। কারও হাত নেই, কারও পা নেই, কারও মাথা নেই, কোন কোন জায়গায় মানুষের অর্ধেক শরীর পড়ে আছে। এমন দৃশ্য দেখতে হবে তা কখনও চিন্তা করিনি আমি। বড় বড় বিল্ডিংগুলো সব সম্পূর্ণ রূপে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় থাকা গাড়ি ও যানবাহনসমূহ পুরে উল্টে-পাল্টে গেছে। রাস্তার উপরে শুধু মানুষের মাংস, রক্ত এবং পুড়ে যাওয়া জামা-কাপড়। আমাদের দেশের মানুষ কখনও এমন বিভৎস কিছু এর আগে দেখেনি।
মোগাদিসুতে বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ইতোমধ্যে ২শ ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আহতদের চিকিৎসার সুবিধার জন্য সিটি মেয়র তাবিদ আবদি নগরবাসীদেরকে রক্ত দেয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন: হাসপাতালগুলোতে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে। আপনারা সবাই সেখানে যান, আপনার ভাই-বোনদের বাঁচাতে রক্ত দিন।
শনিবারের এই বিস্ফোরণে হোটেলটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। হামলার ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহি মোহাম্মদ।
২০০৭ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের আত্মপ্রকাশের পর এটিই সবচে বড় বোমা হামলা। তবে এখনও পর্যন্ত হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি। অবশ্য আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট আল-শাবাব জঙ্গিগোষ্ঠী সোমালিয়ায় প্রায়ই এ ধরণের বোমা হামলা চালায়।








