এভারেস্টের চূড়ায় একাকী আরোহণের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নেপাল। দুর্ঘটনা এড়াতে এবং নিরাপদে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণের জন্য এই নিয়ম করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
নতুন নিয়ম অনুসারে এখন থেকে গাইডের সহায়তায় নিয়ে পর্বত আরোহণ করতে হবে পর্বতারোহীদের।
পর্বতারোহিদের নিরাপত্তা ও তাদের মৃত্যুর হ্রাসের জন্য এই আইন আরোপ করা হয়েছে বলে নেপালের পর্যটন অধিদপ্তরের অফিসিয়াল সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি।
নতুন নিয়মানুসারে অন্ধ এবং দু’হাত বা পা নেই এমন ব্যক্তিদের মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করার উপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে নানাভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে।
প্রতিবছরের মতো এ বছরও অসংখ্য পর্বতারোহী এভারেস্টে উঠার চেষ্টা করছেন। তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই নিয়ম করেছে নেপাল সরকার। এই মৌসুমে ইতিমধ্যে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়া স্পর্শ করার রেকর্ড করতে চাওয়া ৮৫ বছর বয়সের মির বাহাদুর অন্যতম। রয়েছেন সুইস মেশিন হিসাবে বিশ্ববিখ্যাত পর্বতারোহী উয়েলি স্টেকও। তিনিও একাকী পর্বতারোহীণ করা সময় মারা যান।
১৯২০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মৃত্যুর মিছিলে পর্বতারোহণ করতে গিয়ে যোগ হয়েছেন প্রায় ২০০ জন পর্বতারোহী। ১৯৮০ সালের পর থেকেই এই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।
বিবিসিকে দেয়া হিমালয়ের ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, ২০ শতাংশের বেশি পর্বতারোহী মারা যায় গুরুতর অসুস্থতাজনিত কারণে। বেশির ভাগ (২৯ শতাংশ) মারা যায় ধসের কারণে। ২৩ শতাংশের মৃত্যু হয় পড়ে গিয়ে।
নতুন এই নিয়মের ফলে নেপালে পর্বতারোহণে সহায়তাকারী গাইডদের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন কর্তৃপক্ষ। তবে অন্ধ এবং দু’হাত নেই এমন ব্যক্তিদের পর্বত আরোহণে নিষেধাজ্ঞার আরোপ করার সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে হারি বুধা মাগার বলেন, এই সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং অবিচার।
পর্বতারোহী হারি আফগানিস্তানের যুদ্ধে তার দু’পা হারান। তিনি এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে তার ফেসুবকে এক পোস্টে লিখেছেন, ক্যাবিনেট যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক না কেন আমি পর্বতারোহণ করে যাবো, কোন কিছুই অসম্ভব নয়।








