ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ আয়োজন নিয়ে প্রতি মৌসুমেই চলে গড়িমসি। আদতে লিগ হবে কিনা সেটি নিয়েই থাকে অনিশ্চয়তা। হবে-হচ্ছে করে সময় যায়, তৈরি হয় ধূম্রজাল। সেই অবস্থা থেকে এবারও বের হতে পারেনি লিগের আয়োজক ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। ২০১৬-১৭ মৌসুমের লিগ কবে মাঠে গড়াবে এমন প্রশ্নে সিসিডিএমের সচিব রাকিব হায়দার পাভেল একটু বিব্রতই হলেন। জানালেন, এখনো জানা নেই লিগ ঠিক কবে মাঠে গড়াবে!
লিগ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানতে চাওয়ায় সিসিডিএমের সচিব বলেন, ‘মার্চের প্রথম সপ্তাহে দল বদলের চেষ্টা করা হবে। আমাদের চেয়ারম্যান দেশের বাইরে আছেন। তিনি ফিরলে সামনের মঙ্গলবার হয়তো আমরা বসবো। পরে ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসতে হবে। তারা যখন চাইবে লিগ তো তখনই হবে। ১২টা ক্লাবের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।’
ক্লাব সূত্রে জানা যাচ্ছে, মার্চের শেষ সপ্তাহ বা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে মাঠে গড়াতে পারে লিগ। এখন বড় প্রশ্ন হয়ে থাকছে ক্লাবগুলো জাতীয় দলের ক্রিকেটার ছাড়া খেলতে রাজী হবে কিনা। বাংলাদেশ দলের শ্রীলঙ্কা সফর শেষ হবে ৬ এপ্রিল। সফরের শুরুতে টেস্ট, পরে ওয়ানডে ও শেষে টি-টুয়েন্টি। শুধু টেস্ট দলে থাকা ক্রিকেটাররা প্রিমিয়ার লিগ খেলতে পারবেন শুরু থেকেই। কিন্তু ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটাররা লিগ শুরু করবেন এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে।
মে মাসে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। জুনে ইংল্যান্ডে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। অর্থাৎ লিগের শুরু ও শেষ দিকেও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাওয়া যাবে না।
এমন বাস্তবতায় ক্লাবগুলো খেলতে রাজী হবে কিনা সেটি নিয়ে শঙ্কা থাকছেই। প্রথমসারির কয়েকটি ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সিসিডিএমের সভাতেই আমরা জানাবো খেলবো, কি খেলবো না। এখন কিছু বলতে পারছি না।
বাস্তবতা হলো প্রিমিয়ার লিগ আয়োজনে প্রতি মৌসুমেই ক্লাবের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় সিসিডিএমকে। সেটা বোঝাতে গিয়েই রাকিব হায়দার বললেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা কতটুকু আছে? জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ছাড়া ক্লাব খেলবে কিনা সে বিষয়টি তো থাকছেই। অন্য অনেক বিষয়ও এর সঙ্গে জড়িত। দ্বিতীয় বিভাগ শুরু হয়ে যাবে ২৬ তারিখ থেকে। প্রথম বিভাগ আমরা শেষ করেছি মাত্র। তাছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবগুলোর ওপর অনেক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটা ভিন্ন। উল্টো ক্লাবগুলোর সিদ্ধান্তের দিকেই আমাদের তাকিয়ে থাকতে হয়।’
অনিশ্চয়তার মাঝে আশার খবরও থাকছে। ক্লাবকর্তারা দল গোছানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন। ‘উন্মুক্ত’ পদ্ধতিতে দলবদল হওয়ায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম দোলেম্বর ও গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স দল গুছিয়ে ফেলেছে। ১৮জন করে ক্রিকেটার নিয়েছে ক্লাব চারটি।
গত মৌসুমের মতো এবারও শক্তিশালী দলই গড়ছে আবাহনী। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির ঊর্ধ্বতন এক কর্তার ভাষ্যে, সাকিব, তামিম, তাসকিন, মোসাদ্দেক, নাজমুল, সাকলাইনকে ধরে রেখেছে ক্লাবটি। নতুন যোগ হচ্ছেন শুভাগত, মিঠুন, সাইফুদ্দিন, আফিফ, আবু জায়েদরা। ইনজুরিতে থাকার পরও পেসার মোহাম্মদ শহীদকে রেখেছে আবাহনী।
অন্যদিকে মাশরাফি, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহকে দলে টানছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। তিন অভিজ্ঞের সঙ্গে থাকছেন নাঈম ও তুষার। বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাককেও দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ক্লাবটি।
বাকি ক্লাবগুলোও দল গোছানোর কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। তাতে জমজমাট এক লিগেরই আবহ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভাবনাজুড়ে থাকছে বৃষ্টি শঙ্কা। কেননা ২০১৫-১৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ মাঠে গড়িয়েছিল ২২ এপ্রিল। বৃষ্টি বাধায় প্রথম রাউন্ডের কয়েকটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে সুপার লিগ থেকে রিজার্ভ-ডে রাখতে বাধ্য হয় সিসিডিএম। তাতে লিগ শেষ করতে সময় লাগে পাক্কা দুই মাস। সঙ্গে বৃষ্টি আইন ডাকওয়ার্থ ও লুইস মেথডে ১৫টি ম্যাচের ফলাফল আসায় মাঠের লড়াই জৌলুস হারায়।
জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাওয়া, না পাওয়ার টানাপোড়েনে এবারও এপ্রিলের দিকেই যাচ্ছে লিগ শুরুর তারিখ। সব মিলিয়ে আগের মৌসুমের চিত্রটাই ফিরে আসবে না তো!








