বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের রোমাঞ্চ, উত্তেজনার পারদ দিনে দিনে বাড়ছেই। বিশ্বের যে প্রান্তেই দল দুটি মুখোমুখি হোক, লড়াই চলে হাড্ডাহাড্ডি। আরেকবার বড় মঞ্চে দেখা হচ্ছে তাদের, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে। যে ম্যাচটি দেখতে অপেক্ষায় দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনও ম্যাচটি দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
এমনিতে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই সবার মধ্যে অন্যরকম উত্তেজনা। আগের সব উত্তেজনা ছাপিয়ে যাচ্ছে এজবাস্টনে বৃহস্পতিবারের ম্যাচ। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশারও এই উত্তেজনার সঙ্গে আগের কোন অনুভূতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন না।
‘এমন এক্সাইটেড কবে ছিলাম, কোন বিষয়ে ছিলাম ঠিক মনে পড়ছে না। জীবনে তো অনেক বিষয়েই এক্সাইটমেন্ট আসে। ব্যক্তিগত জীবনে, খেলোয়াড়ি জীবনে, পেশাগত জীবনে। তবে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। এত উত্তেজনা নিয়ে কবে অপেক্ষা করেছি মনে পড়ছে না। আমি কোন ম্যাচ এত উত্তেজনা নিয়ে হয়তো দেখব না, যেভাবে এই সেমিফাইনাল দেখব। ফাইনালের এক ধাপ পেছনেই আমরা দাঁড়িয়ে আছি। এটা অসাধারণ একটা মুহূর্ত। প্রত্যাশা থাকবে দিনটা যাতে আমাদের হয়।’
বাশার মনে করছেন নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলেই ভারতকে হারানো সম্ভব, ‘আমরা ভারতের বিপক্ষে অনেক ম্যাচেই জয়ের কাছাকাছি গিয়েছি। তার মানে জেতার খুব কাছাকাছি যাচ্ছি। ভারতের ব্যাটিং বিশ্বসেরা, এটা নিয় কারও সন্দেহ নেই। ওদের ওপেনিং, মিডলঅর্ডার খুব ভালো। এত ভালো ব্যাটিং লাইনআপকে কিন্তু আমরা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৪০-এ অলআউট করে দিয়েছিলাম। এমন না তাদের আটকানো যায় না। আটকানো যায়। ক্রিকেটে সব কিছুই সম্ভব। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলছি। আমরা যদি আমাদের ক্রিকেটটা খেলতে পারি। ভারতকে হারানো অবশ্যই সম্ভব। দিনটা যেন আমাদের পক্ষেই যাই।’
ভারতের জন্য সেমিফাইনালে ওঠা বিশেষ কিছু নয়। সবশেষ সাতটি আইসিসি টুর্নামেন্টের মধ্যে ছয়টিতেই সেমিতে খেলেছে তারা। বাংলাদেশের জন্য এবারই প্রথম আইসিসির আসরে সেমিফাইনালে পা রাখা। হাবিবুল বাশার মনে করছেন ম্যাচটা জিততে পারলে বাংলাদেশের সমর্থকদের অনেক বড় আনন্দের উপলক্ষ হবে এটি।
‘দেশের ১৬ কোটি মানুষ ক্রিকেট ভালোবাসে। এ ম্যাচটা জিতলে সমর্থকদের জন্য একটা বিশাল ব্যাপার হবে। জিতুক-হারুক বাংলাদেশের ক্রিকেট কিন্তু আগাবেই। জিতলে আমরা সমর্থকদের উপহার দিতে পারব। দেশের সকল মানুষ চাইছেন ম্যাচটা জিতে ফাইনাল খেলুক বাংলাদেশ। সবার প্রত্যাশা যেন পূরণ করতে পারে বাংলাদেশ দল, সে আশা নিয়েই অপেক্ষা করছি।’







