স্পেনের বিপক্ষে এই ম্যাচের আগে ৩৪০ মিনিটে খেলে গোলের দেখা পাননি। কিন্তু তিনি তো বিশ্বসেরা! দমার পাত্র নন। লালন করেছিলেন গোল-ক্ষুধাটা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সেটা মেটালেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিকে। আর রেকর্ড বইয়ে অনেক অর্জন লুটিয়ে পড়ল তার পায়ের জাদুতে।
স্পেনের বিপক্ষে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচের তকমা পাওয়া লড়াইটা জিততে পারেননি রোনালদো। তবে তার ৩ গোলেই সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছে পর্তুগাল।
চতুর্থ মিনিটে বক্সের ভেতর রোনালদোকে ফেলে দিয়ছিলেন নাচো। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিকে বারের ডানদিক দিয়ে জাল খুঁজে নেন গোলমেশিন সিআর সেভেন। সেটি দারুণ এক অর্জনের পাশে বসিয়ে দেয় তাকে।
রোনালদোর এই গোলটি ছিল টানা চার বিশ্বকাপে জাল খুঁজে নেয়ার কীর্তিতে নাম লেখানো সাফল্য। টানা তো দূরের কথা, তার আগে কোনো পর্তুগিজ খেলোয়াড়ই চার বিশ্বকাপে গোল করতে পারেননি। আর আগে ইতিহাসে মাত্র তিনজনের বিশ্বকাপের চার আসরে গোল করার কীর্তি আছে।
২০০৬ সালে নিজের খেলা প্রথম বিশ্বকাপে শুরু। সেবার এক গোল করেছিলেন। ২০১০ বিশ্বকাপেও একটি। ২০১৪ বিশ্বকাপে পর্তুগাল যখন গ্রুপপর্বেই ছিটকে যায়, তখনও রোনালদোর নামের পাশে ছিল একটি গোল। ২০১৮তে ম্যাচের ৪ মিনিটেই সাফল্য। ব্যাস, দেশিয় রেকর্ড।
পর্তুগিজ রেকর্ডের সময় একটি আন্তর্জাতিক রেকর্ডও গড়েছেন রোনালদো। অবশ্য রেকর্ডটি তারই ছিল, সেটা কেবল বাড়িয়ে নিয়েছেন সংখ্যায়। একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ইউরো এবং বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ৭টি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে গোল করার রেকর্ড গড়ে রেখেছিলেন, সেটি শুক্রবার রাতে ৮-এ টেনে নিলেন।
ম্যাচের ৪৪ মিনিটে দ্বিতীয় গোলের দেখা পান রোনালদো। তার আপাত নিরীহ একটি শট স্পেন গোলরক্ষক ডেভিড ডি গিয়ার গ্লাভস ফসকালে গোল হয়ে যায়। এমন উপহার গোল যেনো চাননি রোনালদো নিজেই! তাইতো তৃতীয় গোলটি করে দলকে কেবল একটি পয়েন্টই এনে দেননি, ফুটবল শিল্পের পসরাও সাজিয়েছেন।
তখন ম্যাচের ৮৭ মিনিটে চলে। দল ২-৩এ পিছিয়ে। সুবিধাজনক জায়গায় পেয়ে যান ফ্রি-কিক। তা থেকে চোখে লেগে থাকার মতো চমৎকার এক বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন রোনালদো। বল অনেকটা বাঁক খেয়ে ক্রসবার ঘেঁষে চলে যায় জালে। ডি গিয়ার আসলে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া করার কিছুই ছিল না তখন। পূর্ণ হয়ে যায় হ্যাটট্রিক।
যেটি বিশ্বকাপে রোনালদোর প্রথম হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিক। ৩৩ বছর বয়সে! আর বিশ্বযজ্ঞের আসরে স্পেনের বিপেক্ষে কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম হ্যাটট্রিকও। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের ৫১তম হ্যাটট্রিক। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে রোনালদোরও ৫১তম হ্যাটট্রিক।
এদিন ফেরেঙ্ক পুসকাসকেও ছুঁয়েছেন রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর গোল এখন ৮৪টি। সমান গোল করে ইউরোপে গোলদাতাদের চূঁড়ায় এতদিন একাই ছিলেন পুসকাস।









