ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সমাপ্তি ঘটল শুক্রবার। জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটক (ঘোড়ায়) চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যালোকে (পৃথিবী) এসেছিলেন। আর কৈলাশে (স্বর্গে) বিদায় নিলেন দোলায় চড়ে।
সারাদেশে উৎসবের আমেজে হয়ে গেল দুর্গাপূজা। ঢাক-ঢোল, কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পূজা মণ্ডপগুলো। গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সারা দেশে ৩১ হাজার ২৭২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবার। রাজধানী ঢাকাতেই ২৩৪টি মণ্ডপে পূজা হয়েছে।
নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। তাতে পূর্ণ সহযোগিতা পরায়ণ ছিলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা থেকে শুরু করে তাদের উৎসবে সামিল হওয়া সর্বস্তরের জনগণ। এতে সার্বজনীন এ উৎসব সমাপ্তির পথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা সামনে আসেনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মে বিশ্বাসীরাও সার্বজনীন এ উৎসবের অনুষঙ্গ। সকল ধর্মের মানুষের একে অপরের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ও সৌহার্দের সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগ আসে এসময়ে। পারস্পরিক ঘৃণা-বিদ্বেষ দূর করার লক্ষ্যে সমাজ এগিয়ে যায় পরের ধাপে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেটিই মনে করিয়ে দিলেন আরেকবার। দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার বঙ্গভবনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয়, একটি সামাজিক উৎসবও, যা সব জনগণের মধ্যে ঐক্যের সেতুবন্ধ গড়ে তোলে। এ জন্যই এই উৎসব সর্বজনীন।
রাষ্ট্রপতি ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে সব অপতৎপরতা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার আহ্বানও জানান।
সম্প্রীতির এ সর্বজনীনতা অব্যাহত থাকুক সর্বত্র, সবসময়। সহাবস্থান উৎকর্ষতা বাড়াক মনুষ্যত্বের। গড়ে উঠুক আরও অধিকতর মানবিক সমাজ। সকল অশান্তি বিসর্জিত হোক আগামীর পৃথিবীতে কদম রাখার আগেই। যে পৃথিবীতে সহাবস্থান ও সম্প্রীতির উজ্জ্বল তারকা হয়ে মাথা উঁচু করে থাকায় অগ্রদূত হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ বাংলাদেশ।







