ব্যাংক ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে এ খাতে আরো স্বচ্ছতা আনতে বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম মহউদ্দিন।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন: ‘খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ‘স্বাধীন ব্যাংক কমিশন’ গঠনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন। আশাকরি অতি দ্রুত একটি স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করবে সরকার।’
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পরামর্শ দেন তিনি। এসময় সংগঠনের সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফসহ অন্যান্য পরিচালকরা উপস্থিথ ছিলেন।
শফিউল ইসলাম বলেন, দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে ব্যাংকের সুদের হার একক অংকে নামিয়ে আনার বিষয়ে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এফবিসিসিআই থেকে আহ্বান জানানো হয়। তারই ধারাবাহিকতায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদের হার এক অংকে নামিয়ে আনে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে যে সব ব্যাংক সুদের হার এখনও এক অংকে নামিয়ে আনতে পারেনি তাদের অবিলম্বে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এক অংকে নামিয়ে আনার আহবান জানাচ্ছি।
দেশে ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণে ব্যাংকের সুদের হার টেকসই করা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে একটি ‘স্বাধীন ব্যাংক কমিশন’ গঠনের বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন। আশাকরি অতি দ্রুত একটি স্বাধীন ব্যাংক কমিশন গঠন করবে সরকার।
এফবিসিসআই সভাপতি বলেন: ‘স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে অভিযাত্রার গৌরবময় মুহুর্তে দেশে ব্যবসা ও শিল্প-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে ঋণের সুদহার হ্রাস বিশ্ব বাণিজ্যের প্রেক্ষাপটে সময়োচিত পদক্ষেপ। তবে এই সুদের হার একক অংকে অব্যাহত রাখা বা টেকসই করার ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়টিতে বিশেষ নজর রাখতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত এবং নারী উদ্যোক্তারা যেন সহজে এক অংক সুদ হারে ঋণ নিতে পারেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।’
বিভিন্ন দেশের ব্যাংক ঋণের সুদ হারের তালিকা তুলে ধরে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন: ‘বর্তমানে চীনে গড় সুদের হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, ভিয়েতনামে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ, পাকিস্তানে ৮ দশমিক ২ শতাংশ, থাইল্যান্ডে ৭ শতাংশ, নেপালে ৭ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ায় ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে এসে বলেছেন যে, বিশ্বব্যাংকে ট্রিলিয়নস ডলার বিনিয়োগের অপেক্ষায় পড়ে আছে- এমন তথ্য জানিয়ে শফিউল ইসলাম বলেন: ‘এ অর্থ বিনিয়োগের জন্য বিশ্ব ব্যাংক বিভিন্ন দেশে সুযোগ খুঁজছে। বাংলাদেশ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে একটি ভাল অবস্থানে রয়েছে, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। অতএব স্বল্প সুদে ও সহজ শর্তে বিশ্বব্যাংক থেকে এসব অর্থ আনার ব্যবস্থা নেয়া হলে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বেসরকারি খাতও এ অর্থ ব্যবহার করার সুযোগ পেলে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে এফবিসিসিআই মনে করে।’
তিনি বলেন: ‘দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার এক অংকে রাখতে হবে। এর বিকল্প নেই। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসার খরচ ও সময়, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস এবং সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে বেসরকারি খাত এগিয়ে যাবে।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘদিন যাবত এ দুর্বিষহ বোঝা সুদের হার এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে।’
‘বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমান প্রায় ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা (মার্চ ২০১৮-এর তথ্যমতে)। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ এবং বিনিয়োগবান্ধব করতে খেলাপি ঋণ কমাতে হবে। এজন্য ব্যাংকগুলোর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরো জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বড় অঙ্কের (বৃহদাঙ্ক) ঋণগুলো কমিয়ে আনার বিষয়ে অধিকতর জোরালো ও কাঠামোবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত জরুরি।’
খেলাপী গ্রাহকদের সতর্ক করে শফউল ইসলাম বলেন: ‘যারা ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপী হচ্ছেন, এফবিসিসিআই তাদের বর্জন করবে। তাই এসব থেকে বিরত থাকুন।’








