ছয় মাসের মধ্যেই তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে সর্বোচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার পর এই ভবনের বিভিন্ন অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরণের চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। মুখে ব্যক্ত না করলেও অনেকেই তা প্রকাশ করছেন আকার-ইঙ্গিতে। ভবনটি ভাঙ্গা হলে ভাগ্যে কী ঘটবে-তা নিয়েই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন তারা। চাকুরি হারানোর আশঙ্কাও করছেন কেউ কেউ।
কারণ হিসেবে তারা মনে করেন, নতুন ভবন নির্মাণ একটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এতদিন তো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিবে না অফিস। আর নতুন ভবন হলেও সেখানে সব লোককে নিয়োগ দেওয়া হবে কিনা সেটাই চিন্তার বিষয়। এই চিন্তা শুধু বিজিএমইএতে কর্মরতদের নয়, ভবনের অন্যান্য অফিসের কর্মীরাও রয়েছেন একই শঙ্কায়।
তবে বিজিএমইএ থেকে আপাতত কারো চাকুরি যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্র জানায়,বিজিএমইএসহ ভবনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০টি অফিস রয়েছে। বর্তমানে বিজিএমইএ-এর পুরো ভবনটি রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য কর্মরত রয়েছেন প্রায় দু্ইশ কর্মকর্তা-কর্মচারী। এছাড়া সবচেয়ে বেশি কর্মচারী রয়েছে শীর্ষ গার্মেন্টস কোম্পানি দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেডের (ডিবিএল) অফিসে। এই কোম্পানিটি ভবনের ১২, ১৩ ও ১৪ এ তিনটি তলার মালিক। প্রতিষ্ঠানটির মালিকানায় রয়েছে প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট জায়গা। এখানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৪০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন ভবনের বিভিন্ন অফিসে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে হেরে সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন,আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্ধারিত সময়ে তারা ভবন ছেড়ে দিবেন। নতুন অফিসের জন্য সরকারের কাছ থেকে উত্তরার ১৫নং সেক্টরে পাঁচ বিঘা জমি বরাদ্দ পেয়েছেন। যতদ্রুত সম্ভব সেখানে চলে যাবেন তারা। মূলত এরপরই কর্মীদের মধ্যে চিন্তার উদ্ভব হয়। কারণ বিজিএমইএর নেতাদের মত তারাও এতদিন ভাবছেন, এত দামী ভবন সরানোর উদ্যোগ নিবে না সরকার। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর নিশ্চিত হন যে কোনোভাবেই ভবন টিকিয়ে রাখা যাবে না।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনেকে মনে করেন, এখান থেকে বিজিএমইএ চলে গেলে, কারো কারো চাকুরিও চলে যেতে পারে। কারণ অফিস স্থানান্তরের বিষয়টি দীর্ঘমেয়াদী হবে। অফিসকে কেন্দ্র করে অনেকেই এর আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সন্তানদের ভর্তি করিয়েছেন। কেউ কেউ টুকটাক ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। কিন্তু অফিস স্থানান্তর করা হলে সব কিছু এলোমেলো হয়ে যাবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মধ্যম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দীর্ঘদিন এখানে অফিস করছি। তাই সুবিধামত স্কুলে ছেলে-মেয়েকে ভর্তি করিয়েছি। এখন অফিস চলে গেলে চাকুরি রক্ষায় আমাকেও যেতে হবে। কিন্তু সন্তানদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো আর শিফট করবে না। এমতাবস্থায় কি করা যায় ভেবে পাচ্ছি না।
একজন কর্মচারী বলেন, আদালতের রায়কে তো শ্রদ্ধা জানাতেই হবে। তবে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবো। কারণ দশ বছর ধরে এখানে চাকুরি করছি। বেতন পাই ১৩-১৪ হাজার টাকা। বাসা রাজা বাজারে। কিন্তু এখান থেকে উত্তরা অনেক দূর। বেতনের অর্ধেক চলে যাবে বাস ভাড়ায়। তবু পেটের দায়ে চাকুরি টিকিয়ে রাখতে হলে সেখানে যেতে হবে।
বিজিএমইএ ভবনে থাকা অন্য অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোন অফিসে চাকুরি করি তা বলা যাবে না। তবে শোনা যাচ্ছে অফিস স্থানান্তরের উছিলায় আমাদের কয়েকজন লোককে সরিয়ে দেয়া হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিজিএমইএর সহসভাপতি ফেরদৌস পারভেজ বিভন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,নতুন কমিটি আসার পর কিছু সংখ্যক লোক উদ্বৃত্ত ছিল। তাদেরকে বিজিএমইএর সাথে সম্পৃক্ত আইএলও, গিজসহ বিভিন্ন প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন যারা আছে, এরা প্রয়োজনীয় লোক। কারো বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ না থাকলে কাউকে অপসারণ করা হবে না।
তিনি বলেন, আমরা আপাতত উত্তরায় ছোট একটি ভবন তৈরি করবো। সেখানে সংগঠনের কার্যক্রম চলবে। তবে উত্তরায় গেলে অনেকের ব্যয় বেড়ে যাবে, এটা ঠিক। প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে বিজিএমইএ ভেবে দেখবে।
তবে অন্যান্য অফিসে দীর্ঘদিন যারা কর্মরত রয়েছেন নিজ নিজ অফিস তাদের বিষয়ে বিবেচনা করবেন বলে প্রত্যাশা করেন বিজিএমইএর এই নেতা।








