দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নায়ক বা খলনায়ক, যাই বলা হোক না কেনো, ‘বিশ্বযুদ্ধ’ শব্দটা শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে ছোট করে ছাঁটা গোফ, গোছানো পোশাক পড়া মার্জিত কিন্তু কঠোর একটা চেহারা। তার নাম অ্যাডল্ফ হিটলার। যিনি একে একে পুরো বিশ্বকে আনতে চেয়েছিলেন জার্মানির পতাকা তলে, নিজ জাতির ‘বিশুদ্ধ’ রক্তের শাসনাধীন করতে চেয়েছিলেন বাকি পৃথিবী ‘অশুদ্ধ’ রক্তের মানুষগুলোকে।
সেই হিটলারের বহু রহস্যই এখনো রয়ে গেছে অমিমাংসিত। এমনকি তার আত্মহত্যা নিয়েও ইতিহাসবিদদের মধ্যে রয়েছে বিতর্ক। এবার সেই রহস্যগুলোর মধ্যে একটি রহস্য সম্প্রতি উন্মোচিত হলো তার কথিত ‘ব্ল্যাক বুক’ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। যার মধ্যে পাওয়া গেছে হিটলারের ভাষায় তৎকালীন ২ হাজার ৮শ’ ২০ জন ‘দেশের শত্রু’, ‘বিশ্বাসঘাতক’ এবং ‘অবাঞ্ছিত’ ব্যক্তির একটি তালিকা।
হিটলারের বিখ্যাত ‘ব্ল্যাক বুক’
তালিকায় বিখ্যাত বহু ব্রিটিশ ব্যাক্তিত্বের নামও ছিলো, যাদেরকে দেশের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন হিটলার। তাদের মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল, বিখ্যাত লেখক এইচ. জি. ওয়েলস, নারীবাদী ভার্জিনিয়া উলফসহ শত শত রাজনীতিক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অভিনয় শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, বিজ্ঞানী, শিল্পপতি এবং ধর্মীয় নেতা।
হিটলার ঠিক করেছিলেন, যুদ্ধে জয় পাওয়ার পর এদেরকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে পরপারে পাঠাবেন তিনি। তাই যুক্তরাজ্য আক্রমণের পরিকল্পনার পরের কাজ হিসেবেই তালিকাটি ব্ল্যাক বুকে স্থান দেওয়া হয়।
অনুবাদকৃত তালিকার একাংশ
পুরো ব্ল্যাক বুক এবং ‘হিটলিস্ট’টি বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এটাও বের করেছেন তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কেনো নাযী বাহিনী এবং জার্মানীর জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছিলো এবং এরপর তাদের সঙ্গে কী হয়েছিলো। ওই সময় হিটলিস্টের ২০ হাজার কপি করা হলেও বর্তমানে এর মাত্র ২টি কপি টিকে আছে।
বিশ্বযুদ্ধের ব্রিটেন যুদ্ধ দিবসের ৭৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে তালিকাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করে সম্পূর্ণ তালিকা ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করবে ব্রিটিশ সামরিক তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা ফোর্সের ওয়ার রেকর্ডস। প্রাপ্ত বাকি সব তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন গবেষণাকারী দল।







