এবারের ঈদুল ফিতরে যাতায়াতে দেশের সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ২৫৬টি দুর্ঘটনায় ২৯৮ জন নিহত ও ৮৬০ জন আহত হয়েছেন।
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০১৯ প্রকাশ করে এমনই তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
শনিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ বছরের শুধু ঈদুল ফিতরে যাত্রায় দুর্ঘটনা প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসব তথ্য তুলে ধরেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল প্রতি বছরের মতো এবারও প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘প্রতি বছর ঈদকেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সংগঠনটি ঈদ যাত্রায় সড়ক, রেল ও নৌ-পথে দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির বিষয়টি গত ২০১৬ সাল থেকে পর্যবেক্ষণ করে আসছে, যা জনসচেতনতা সৃষ্টিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।’
লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, গত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো, নৌ-পথে বেশ কয়েকটি নতুন লঞ্চ বহরে যুক্ত হয়েছে, রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন রেল ও বগি সংযুক্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় জনসাধারণ আগেভাগে বাড়ি পাঠানোর সুযোগ কাজে লাগানোর কারণে ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতিসহ সার্বিক পরিকল্পনা এবং বিগত ২০১৬ সাল থেকে ঈদযাত্রায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির ধারাবাহিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনগুলো গণমাধ্যম ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানোর কারণে এবারের ঈদে বিগত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা ১৯.৩৯ শতাংশ, নিহত ২৪.১৭ শতাংশ ও আহত ৪৮.৯৯ শতাংশ কমেছে।’
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ বছর মোট ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনার ৭৬টি ঘটেছে মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্যান্য যানবাহনের সংঘর্ষে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩ শতাংশ। যেখানে মোট নিহতের ৩০ শতাংশ এবং মোট আহতের ১০ শতাংশ। অন্যদিকে পথচারীকে গাড়ি চাপা দেয়ার ঘটনা প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘটেছে। আগামী ঈদে এ দু’টি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে এই দুর্ঘটনার প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ঈদযাত্রা শুরুর দিন, অর্থাৎ ৩০ মে থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা, অর্থাৎ ১১ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে ২৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত ও ৮৪৯ জন আহত হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪০ জন চালক, ২০ জন শ্রমিক, ৬৮ জন নারী, ৩৩ জন শিশু, ২৪ জন ছাত্র-ছাত্রী, ২ জন চিকিৎসক, ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৩ জন রাজনৈতিক নেতা, ৯১২ জন পথচারী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৮টি, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ২টি, ট্রেন যানবাহন সংঘর্ষে ১টি, ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার ২টি ঘটনায় মোট ১৩ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে নৌপথে ১১টি ছোটখাট বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ৩ জন নিখোঁজ ও ৮ জন আহত হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য ৪০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, ৮টি অনলাইন দৈনিক এ প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান সংগঠনের মহাসচিব।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনাগুলোর কারণ হিসেবে মোট ৭টি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এছাড়া দুর্ঘটনা কমাতে চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন, যানবাহনের ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন, মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রা নিষিদ্ধ করা, ঈদের আগে ৩ দিন ঈদের পরে ৩ দিন ঈদের ছুটি নিশ্চিত করাসহ মোট ১০ ভাগে বেশকিছু সুপারিশ রেখেছে সংগঠনটি।








