জাহিদুল ও শওকতকে বন্ধু হিসেবেই জানতো এলাকাবাসী, তারা একে অপরের প্রতিবেশীও। কিন্তু ইয়াবা বিক্রির মাত্র ৮ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে বন্ধু থেকে শত্রু, তারপর জাহিদুলকে খুন করে শওকত।
শনিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রবিউল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জাহিদুলকে হত্যার কথা স্বীকার করে শওকত।
জাহিদুলের লাশ উদ্ধারের ৯ দিন পর গ্রেপ্তার হওয়া শওকত জবানবন্দিতে জানায়, জাহিদুলের কাছ থেকে সে ইয়াবা কিনে অন্যত্র বিক্রি করতো। বেশ কিছুদিন আগে ইয়াবা ব্যবসার অগ্রীম হিসাবে সে তার প্রতিবেশী ও বন্ধু জাহিদুলকে ৮ হাজার টাকা প্রদান করে। টাকা নিয়ে ইয়াবা না দেওয়ায় জাহিদুলের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এর সূত্রধরে শওকত কৌশলে তার সহযোগীদের নিয়ে জাহিদুলকে ডেকে নেয়। পরে গলায় ওড়না পেচিয়ে হত্যা করে লাশ জঙ্গলে ফেলে আত্মগোপনে চলে যায়।

গত ৪ অক্টোবর ভোরে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে প্রযুক্তি ব্যবহার করে শ্রীনগর থানার ওসি (তদন্ত) হেলাল উদ্দিন এবং ওসি (অপারেশন) কামরুজ্জামান বান্দরবান জেলার আর্মি পাড়া থেকে শওকতকে আটক করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার ওসি(অপারেশন) কামরুজ্জামান জানান, লাশ উদ্ধারের পর পরিবারের কেউ মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় শ্রীনগর থানার এসআই আবুল কালাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে পুলিশ।
জাহিদুলের প্রতিবেশী শেখ সিরাজের ছেলে শওকতকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এর রহস্য বেরিয়ে আসে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীনগর থানার ওসি(অপারেশন) কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে শওকত ছাড়াও তার আরো দুই সহযোগী অংশ নেয়। তাদেরকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।
তিনি জানান, পূর্ব বাঘড়া এলাকার মৃত মল্লুক চাঁনের ছেলে ও শাহাবুদ্দিন মাষ্টার হত্যা মামলার ৪ বছর সাজা ভোগকারী আসামী রুবেলের ভাই মো. জাহিদুল গত ২১ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হয়।

নিখোঁজের পরদিন জাহিদুলের বোন বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে স্থানীয়রা বাড়ি থেকে একটু দুরে জাহিদুলের লাশটি দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।








