সিরিয়ায় হত্যাযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। ইস্টার সানডে বা পুনরুত্থান উপলক্ষে দেয়া এক বার্তায় তিনি এই আহ্বান জানান। ইস্টার বার্তায় পোপ সৃষ্টিকর্তার কাছে সাউথ সুদান ও কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ক্ষতিগ্রস্তদের আরোগ্য কামনাসহ বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান সহিংসতা দূর হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাশাপাশি কোরিয়া উপদ্বীপে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।
বিবিসি জানায়, রোববার ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটারস স্কয়ার থেকে ইস্টার বার্তা পাঠ করেন পোপ। এসময় হাজার হাজার মানুষ পোপের বার্তা শুনতে সেখানে উপস্থিত হন।
পোপ তার বার্তায় বলেন, খ্রিস্টীয় বার্তার শক্তি পৃথিবীর সকল বঞ্চিতদের মনে আশার সঞ্চার করবে। সকল অভিবাসী ও শরণার্থীর মনেও আশা জাগাবে, যাদের প্রায়ই বাতিল ঘোষণা করা হয়।
পোপ বলেন, আজ আমরা প্রার্থনা করছি পুরো পৃথিবীর ওপর শান্তির ফল বয়ে আসবে, বিশেষ করে শুরুতেই প্রিয় সিরিয়ার কথা বলতে হয়, সেখানকার মানুষ এক প্রায় অসমাপ্ত যুদ্ধে জরাজীর্ণ অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
তিনি বলেন, ইস্টারের শক্তি পৃথিবীর সকল রাজনৈতিক ও সামরিক নেতাদের বিবেককে আলোকিত করবে। এর ফলে হত্যাযজ্ঞের অধ্যায় থেকে আমরা দ্রুত বের হয়ে আসতে পারবো, মানবিক আদালতকে সম্মান জানানো হবে এবং এসব কিছুই সেখানে সাহায্যের সযোগ বৃদ্ধি করবে, যা খুবই দরকার।
পোপ তার প্রথম পাঁচ বছর মেয়াদে বিভিন্ন সময় স্পষ্টভাবে সিরিয়া যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। বিবিসির ভ্যাটিক্যান প্রতিনিধ ডেভিড উইলি মতে, পোপ ২০১৩ সালে সিরিয়ায় নৈতিক বিরোধীদলের নেতৃত্ব দেয়া পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপকে কৃতিত্ব দেন।
তবে নতুন মেয়াদে প্রবেশ করে রোববার পোপ বললেন, আমরা এই পবিত্র ভূমির পুনর্মিলন কামনা করি। এবং আমরা সেখানে যেসব হতাহতের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, আশা করছি তা আর মাত্রাতিরিক্ত হবে না। এছাড়া ইয়েমেন এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংলাপ এবং পারষ্পরিক শ্রদ্ধবোধ সকল বিভেদ ও বিভাজনে প্রলেপ হেয়ে আসবে। 
পোপ তার বাণীতে সাউথ ও নর্থ কোরিয়া সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কোরিয়া উপদ্বীপে ঐক্য ও শান্তির পথে আলোচনা সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া ইউক্রেইন ও ভেনিজুয়েলায় সহিংসতা ও বিভাজন দূর হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পোপ ফ্রান্সিস।








