কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত পাচ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করে তাদের সকল ধরনের একাডেমি কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সেই সাথে ওই পাচ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে রাখতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যে পাচ শিক্ষার্থীর বিষয়ে এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তারা হলেন অন্তরা, তাবাসসুম, মীম, উর্মি ও মুয়াবিয়া। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্টকে হল থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
অন্যদিকে ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ভুক্তভোগী ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে তিন দিনের মধ্যে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার পছন্দের হলে সিট দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া ফুলপরী ও এই ঘটনার তদন্তে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এছাড়া ফুলপরীকে ঘনির্যাতনের ঘটনায় শিক্ষার্থী হালিমার মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওটি উদ্ধার করে সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
ফুলপরীকে নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষাপটে করা রিট শুনানির ধারাবাহিকতায় বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। সেই সাথে হাইকোর্ট কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৮ মে দিন ধার্য করেছেন। এই সময়ের মধ্যে এঘটনায় নেয়া পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও রেজিস্ট্রারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ছিলেন গাজী মো. মোহসিন, আসাদ উদ্দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মনজুরুল হক। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ করেন ফিন্যান্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফুলপরী খাতুন। ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন যুক্ত করে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা চেয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ইবির সাবেক শিক্ষার্থী গাজী মো. মহসীন। সে রিটের শুনানি নিয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের পাশাপাশি, নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ওই নির্যাতনে জড়িত সানজিদা চৌধুরী ও তাবাসসুম নামের যে দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে রাখাসহ কয়েক দফা নির্দেশ দেন। পরবর্তী আদালতেরে নির্দেশে গঠিত জুডিসিয়াল কমিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের করা তদন্তে পাচ শিক্ষার্থী ও হল প্রভোস্ট, হাউজ টিউটোরদের দায়িত্বে চরম অবহেলার বিষয়টি উঠে আসে।








