বিশ্বব্যাপি রাশিয়ান কূটনীতিকের বহিষ্কারের বিষয় নিয়ে খুব বেশি তোলপাড় শুরু হয়ে গেলেও এটিই সবচেয়ে বড় ঘটনা নয়। এর আগেও বারবার ছোট বড় অনেক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব কূটনীতির ইতিহাসকে।
কূটনীতিক বহিষ্কারের শুরুটা হয়েছিলো অনেক আগেই। যদিও সেটার সঠিক সময় উল্লেখ বেশ কঠিন। ইতিহাস ঘেঁটে পাওয়া যায় ১৯৭১ সালের বড় কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা।
ব্রিটেনের ইতিহাসে সেটাই ছিলো সবচেয়ে বড় বহিষ্কারের ঘটনা। সেই সময়ে ব্রিটেন সোভিয়েতের ৯০ জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। এবং ১৫ জন সোভিয়েত কর্মীকে দেশে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করে।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে রুশ সাবেক গুপ্তচর ও তার মেয়েকে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একতা প্রকাশ করে এবার একে একে ২০টিরও বেশি দেশ থেকে শতাধিক রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের একটাই কথা – আরেক দেশের মধ্যে ঢুকে এ ধরনের কাজ করা মারাত্মক আন্তর্জাতিক অপরাধ। এর সাজা রাশিয়াকে পেতেই হবে। যুক্তরাজ্যে ঘটা ঘটনার জন্য যুক্তরাজ্য ২৩ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে এবং যুক্তরাষ্ট্র বহিষ্কার করে ৬০ জনকে।
১৯৮৫ সালের পরে এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কূটনীতিককে বহিষ্কার করছে ব্রিটেন। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে নিজেও বলেন গত ৩০ বছরে এটিই সবচেয়ে বড় বহিষ্কারের ঘটনা। ১৯৮৫ সালে ব্রিটেন ২৫ সোভিয়েত কূটনীতিককে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে বহিষ্কার করে। এরপরেই তৈরি হয় দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি। শেষ পর্যন্ত ব্রিটেনে সোভিয়েত এবং সোভিয়েতে ব্রিটেনের ৩১ জন করে কূটনীতিক বহিষ্কৃত হন।
১৯৮০ সালে নিউজিল্যান্ড সরকার সোভিয়েত ইউনিয়ন রাষ্ট্রদূত ভেসেভলদ সফিনস্কিকে সোভিয়েতের পক্ষের সোশালিস্ট ইউনিটি পার্টিকে টাকা প্রদানের অভিযোগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়তে বলা হয়।
১৯৯৬ সালে লন্ডন চারজন রাশিয়ান কূটনীতিককে বহিস্কার করে, কারণ তখন মস্কো অভিযোগ তুলেছিলো একটি ব্রিটিশ গোয়েন্দা চক্রকে তারা উন্মুক্ত করতে পেরেছে এবং সমপরিমাণ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। এর তিন বছর পর ব্রিটেন আবার রাশিয়ান গোয়েন্দা অভিযোগে আরেকজনকে বহিষ্কার করে।
২০১৪ সালে পারস্পরিক কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। সেই ঘটনাও অবশ্য বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত দেব্যানি খোবরাগ্রেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তিনি গৃহকাজে সহায়তার জন্য আনা সঙ্গীতা রিচার্ডের ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা নিয়েছেন। ভিসা দুর্নীতির এই অভিযোগ তুলে কূটনীতিক বহিষ্কারের পরই ভারত থেকেও একজন মার্কিন কুটনীতিককে চলে যাওয়ার কথা বলা হয়।
২০১৬ সালে ডিসেম্বরে হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণায় সাইবার আক্রমণের অভিযোগে ৩৫ রাশিয়ান কূটনীতিককে বরখাস্ত করে ওবামা সরকার।
এর পরে ২০১৭ সালে কিউবায় থাকা মার্কিন কূটনীতিকদের উপর রহস্যজনক সনিক আক্রমণের অভিযোগ তুলে ট্রাম্প সরকার ১৫ কিউবান কূটনীতিককে বহিষ্কার করে।
২০১৭ সালে রাশিয়ায় কর্মরত ৭৫৫ জন মার্কিন কূটনীতিককে তাদের কূটনৈতিক মিশন ত্যাগ করার নির্দেশ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিষেধাজ্ঞার জবাবে এ পদক্ষেপ নেন তিনি। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের দেশত্যাগের নির্দেশ দেয় রাশিয়া।
২০১৭ সালের জুলাইতে গোয়েন্দাবৃত্তি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে কুয়েত সিটিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ও ১৪জন কূটনীতিককে বহিষ্কার করে কুয়েত। রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের ঘটনাটি কুয়েতের জন্য বিরল ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি অঞ্চলটিতে সংঘাত ও বিরোধ এড়িয়ে চলে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংকটে কুয়েতের আমির কূটনৈতিক সমাধানে মধ্যস্ততা করে থাকেন।
এরপরও বেশ কিছু ছোট ছোট কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে তবে সেগুলো বিশ্বব্যাপি সেভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করতে না পারলেও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে বেশ প্রভাব বিস্তার করে।








