প্রায়ই বিভিন্ন গণমাধ্যমে গৃহকর্মী নির্যাতনসহ নানা ধরনের অমানবিকতার খবর আসে। নতুন করে তেমনই দু’টি খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। একটি নারায়ণগঞ্জের, আরেকটি রাজধানীর কমলাপুরের ঘটনা। দ্বিতীয় ঘটনায় অভিযুক্ত একজন পুলিশ সদস্যের স্ত্রী।
চ্যানেল আই অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘‘নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নির্যাতনের শিকার শিশু মাহি’র যাওয়ার কোনো জায়গা না থাকায় বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।’’
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ‘ফতুল্লার পূর্ব ইসদাইর আনন্দনগর এলাকার শহীদুল্লাহর বাড়ির ভাড়াটিয়া আতাউল্লাহ খোকন ও উর্মি আক্তারের বাসায় প্রায় ৩ মাস আগে অনাথ শিশু মাহি গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করতে আসে। এরপর থেকে প্রায়ই প্রতিবেশীরা শিশুটির কান্নাকাটি শুনতে পেতেন। শুক্রবার রাতে তার চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে ওই দম্পতির বাসায় গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ শিশুটির হাতে-মুখে বর্বর নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পায়।’
শিশু মাহি জানিয়েছে, ‘ওই দম্পতির বাসায় আসার পর থেকেই নানা কাজে ভুল ধরে খুন্তি গরম করে হাতে ও শরীরে ছ্যাঁকা দিত তারা। মারধর করত তাকে। কিছুদিন আগে তার হাতে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়ায় তার ডান হাতের চামড়া উঠে যায়। শুক্রবার আবার সেই ক্ষত স্থানে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়।’
অন্যদিকে ঢাকার কমলাপুরের বাসায় গৃহকর্মী মাজেদা বেগমকে নির্যাতনের মামলায় ডিএমপির পুলিশ সার্জেন্ট হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মাহবুবা আক্তার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে গৃহকর্মী মাজেদা বেগমকে খাবার না দেওয়া এবং নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচার হলেও সার্বিকভাবে বিচার তেমন একটা দেখা যায় না। আবার অনেক ক্ষেত্রে মামলা হলেও পরে সমঝোতার মাধ্যমে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। বিগত কয়েক বছরে এমনটাই দেখা গেছে। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি যেকোনো উপায়ে বন্ধ করতে হবে। তবে আশার বিষয় হলো, উপরোক্ত দু’টি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা প্রশংসার যোগ্য।
গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি দরকার বলে আমরা মনে করি। একজন নারী বা শিশুর ওপর নির্যাতন কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। আমরা মনে করি, শিশুদের ওপর নির্যাতন কোনো সভ্য মানুষের কাজ হতে পারে না। গৃহকর্মী নির্যাতন বন্ধে সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান করছি।








