তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভাঙতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করেছে সংগঠনটি।
শনিবার সুপ্রিম কোর্টের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৫ মার্চ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ। এপ্রিলের প্রথম দিকে আদালতে আবেদনটি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
তবে যোগাযোগ করেও এ বিষয়ে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভবন ভাঙ্গতে এর আগে গত বছরের ৮ অক্টোবর ৭ মাস সময় পেয়েছিল বিজিএমইএ। তখন ৭ মাসের মধ্যে ভবন ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই সময় আদালত বলেছেন, ‘এটাই লাস্ট চান্স।’ এক বছর সময়ে চেয়ে বিজিএমইএ’র করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ আদেশ দিয়েছিলেন।
আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কামরুল হক সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
সময় চেয়ে গত ২৩ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করার পর আদালত এই নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ১২ মার্চ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর ভবন ৬ মাসের মধ্যে ভাঙার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ানবাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর ইংরেজি দৈনিক ‘নিউ এজ’ পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই দিনই প্রতিবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন আদালতে উপস্থাপন করেন।
এর পরদিন বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙ্গার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। এরপর ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ’র ভবন ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন।
রায়ে বিজিএমইএকে নিজস্ব অর্থায়নে ভবনটি ভাঙ্গতে বলা হয়। ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিলো সে অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন।
পরবর্তী সময়ে আপিল বিভাগ স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরো বাড়ান। এর দুই বছর পর ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্টের ৬৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপির পর লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। যেটা ২০১৬ সালের ২ জুন খারিজ হয়ে যায়। এরপর বিজিএমইএ রায় পুর্নবিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) আবেদন করেন। গত ৫ মার্চ সে আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।
১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভবন নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর বিজিএমইএ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে বিজিএমইএ ভবনটি তাদের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করছে।








