অন্যান্য

আমলাদের ঘুষ দাবি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

আমলাদের ঘুষ দাবি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

আমলাদের ৫ শতাংশ ঘুষ দাবি করেছিল বলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরের দেয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় সরগরম সামাজিক মাধ্যম।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আর রাজী এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ সিটি কর্পোরেশন হওয়া সত্ত্বেও বঞ্চিত উল্লেখ করে লিখেছেন:

চট্টগ্রামে থাকি।

ঢাকার পরে দেশের সব চেয়ে বড় শহর চট্টগ্রাম। খণ্ডিত ঢাকার মেয়ররা মন্ত্রী, রংপুরের বা নারায়ণগঞ্জের মেয়ররা প্রতি-উপমন্ত্রীর মর্যাদা পাচ্ছেন, চট্টগ্রামের মেয়র নন কেন? এটি চট্টগ্রামের মেয়রের জন্য যেমন বিব্রতকর, তেমনি প্রতিটি চট্টগ্রামবাসীর জন্যও অস্বস্তির। কিন্তু সে কথা পুরানো হয়ে গেছে।

নতুন যে প্রশ্নটি মনে এসেছে, আ জ ম নাছির উদ্দীন মন্ত্রীর মর্যাদা না পাওয়াতেই কি আমাদের আমলাদের কারও কারও সাহস হয়েছে তার কাছ থেকে কমিশন চাওয়ার? উনারা কি ধরে নিয়েছেন চসিক মেয়র মন্ত্রীর মর্যদা পাচ্ছেন না বলে তার কাছে ঘুষ চাওয়া যায়?

এদেশে রাজনৈতিক নেতাদের সিংহভাগ, আমলাদের উপদ্রপ মেনেই নেন না শুধু, তাদের তোষণ করে চলেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে। আ জ ম নাছির সে ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রকৃত জননেতার মতো করে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন।

আজকাল কোন অভিযোগ তোলা খুব কঠিন, কারণ শয়তানরা দারুণ সংঘবদ্ধ। তেড়েমেড়ে আসবে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে, রে রে করে নানান আইন-কানুন কপচে ফাঁদে ফেলবে অভিযোগকারীকেই। যদিও সবাই জানে, প্রমাণ রেখে আকাম-কুকাম করা বা ঘুষ-কমিশন চাওয়া হয় না। কিন্তু তারপরও উপযুক্ত-প্রমাণের জন্যই উনারা দাবি জানিয়ে দাপাদাপি করতে থাকবেন। জল ঘোলা হলে আরও শক্তি নিয়ে আরও বেশি অপকর্মে লিপ্ত হবেন। আমরা সাধরণ মানুষ শিক্ষা পাব- ভাল মানুষের ভাত নাই।

কিন্তু আ জ ম নাছির সাধারণ মানুষ তো নন-ই, সাধারণ নেতাও নন। চট্টলার যে সামান্য ক’জন আঞ্চলিকতার ঘের থেকে বেরিয়ে পুরো জাতীর নেতা হয়ে ওঠার যোগ্যতা রাখেন উনি তাদের অন্যতম। সেই নাছির উদ্দীন আমলাদের থেকে শিক্ষা নেন, না তাদের শিক্ষা দিতে পারেন -তার ওপর দেশের আগামী চেহারা যে অনেকটা নির্ভর করবে; বিশ্বাস করি, আমলারা তা জানেন কিন্তু রাজনীতিবিদরা ব্যাপারটা বুঝতে পারলে দেশের মঙ্গল হয়।

প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…