আফগানিস্তানে তথাকথিত ইসলামি স্টেটের (আইএস) সুড়ঙ্গ ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিক্ষেপ করা সবচেয়ে বড় অপারমাণবিক বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আফগান আইএসের শীর্ষ নেতার ভাইও রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিবিসি’র খবর অনুযায়ী, আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের আচিন জেলায় জঙ্গিদের সুড়ঙ্গ-আস্তানা লক্ষ্য করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘সব বোমার মা’ বোমাটি নিক্ষেপ করা হয়। ৯ হাজার ৮’শ কেজি ওজনের বোমাটি নিক্ষেপের কাজে ব্যবহার করা এমসি-১৩০ ( হারকিউলিস) মার্কিন বোমারু বিমান।
সম্প্রতি আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে আইএস জঙ্গিদের হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের একজন সেনা নিহত হন। এরপরই আইএসের সুড়ঙ্গ ঘাঁটিগুলো চিহ্নিত করে পেন্টাগন। চিহ্নিত করা সুড়ঙ্গের ওপর ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যবহার করা শক্তিশালী বোমারগুলোর চেয়েও বড় আকারের বোমার বিস্ফোরণ ঘটালো যুক্তরাষ্ট্র।
পেন্টাগনের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক মিডিয়াও বলছে, এটি আফগানিস্তানের ওপর ব্যবহৃত এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অপারমানবিক বোমা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এই বোমা হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
জিবিইউ-৪৩ নামের এই বোমাটি সকল বোমার মা হিসেবে পরিচিত। যা এর আগে আর কখনোই কোন কমব্যাটে ব্যবহার করা হয়নি।
পেন্টাগনের মুখপাত্র অ্যাডাম স্টাম্পকে উদ্ধৃত করেই এ তথ্য জানানো হয়। এই বোমায় ১১ টন বিস্ফোরক ছিলো। বোমাটি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্ল্যাস্ট (মোয়াব) বোমা নামে পরিচিত ছিল। বোমাটি ফেলার আগে দেশটির সাধারণ নাগরিকের যাতে ক্ষতি না হয় সে ব্যাপারে সব ধরনের পূর্ব সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। এমনিতেও এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় সাধারণ মানুষ কমই বসবাস করে সেখানে।
আইএস-কে আফগানিস্তানে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্র এমন বোমা আরও ফেলবে, এমন কথাও পেণ্টাগন জানিয়েছে বলে জানাচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলো।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে জন্ম নেয়া ভয়ঙ্কর জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট ডালপালা মেলছে আফগানিস্তানে। জিহাদী উন্মাদনায় এই জঙ্গিগোষ্ঠী আফগানিস্তান ও আশেপাশের বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আবারো সেই পুরানো ‘খোরাসান’ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে আফগানদের বেশিরভাগই মনে করে এই জঙ্গিরা পাকিস্তান থেকে আসা এবং বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ‘আইএসআইএস-কে’ নামে তৎপরতা চালাচ্ছে।








