অবৈধভাবে ভয়াল সমুদ্রযাত্রায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গত দেড় বছরে অভিবাসন প্রত্যাশি প্রায় দু’ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। যাত্রাপথের কষ্টের সঙ্গে অনাহারে আর নিরাপত্তার অভাবে সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে মারা গেছে প্রায় এক হাজার মানুষ। আরো এক হাজার মানুষ মারা গেছে পাচারকারীদের নির্যাতন এবং অবহেলার কারণে।
তাই মানুষের বেঁচে থাকা আর মনুষ্যত্বের জীবনের অধিকার নিশ্চিত করতে যৌথ বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর, ওএইচসিএইচআর, আইওএম এবং এসআরজিএস-এর মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অভিবাসনের আশায় প্রায় ৮৮ হাজার মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে পাড়ি জমিয়েছে। শুধু ২০১৫ সালের প্রথম তিন মাসে এ সংখ্যা ছিলো প্রায় ২৫,০০০। তাদের মধ্যে দু’ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
বিশ্বব্যাপি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু অভিবাসী সমস্যা নিয়ে যৌথ বিবৃতিতে সই করেছেন ইউএন হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস, ইউএন হাইকমিশন ফর হিউম্যান রাইটস, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব মাইগ্রেশন এর ডিরেক্টর জেনারেল এবং স্পেশাল রিপ্রেজেন্টেটিভ অব দি ইউএন সেক্রেটারি জেনারেল।
যৌথ বিবৃতিতে বিশ্বসংস্থাগুলো ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ডের নেতাদের বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সমুদ্রে অভিবাসী ও শরণার্থীদের জীবন রক্ষার আহবান জানিয়েছেন।
প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে তারা বলেন, বঙ্গোপসাগরে ভেসে থাকা অভিবাসন ইচ্ছুক শরণার্থীরা বেঁচে আছে কেবলমাত্র সাদা ভাত খেয়ে। শুধু তাই নয়, নানা অন্যায় আচরণ, এমনকি যৌন নির্যাতনের শিকারও হচ্ছেন তারা।
সমুদ্রে ভেসে থাকা অবস্থায় নারীরা ধর্ষিত হয়েছেন, বাচ্চাগুলোকে তাদের পরিবার থেকে আলাদা করা হয়েছে এবং ভুলপথে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। পুরুষদেরও পিটিয়ে জাহাজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো বলেছে, জীবন বাঁচানোকেই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সেজন্য ‘সার্চ এন্ড রেসকিউ’ অভিযান শুরু করতে বলেছে তারা। কিছু দেশ যে বিপদগ্রস্ত নৌকাগুলোকে আবার সমুদ্রে ঠেলে দিচ্ছে, সেই অমানবিক আচরণও বন্ধ করতে বলা হয়েছে।
সমুদ্র থেকে উদ্ধার মানুষদের আটক না করতে বা তাদের বিরুদ্ধে অন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
তবে শুধু এই সংকটের সময়েই নয়, বিশ্বসংস্থাগুলো অন্য সময়েও অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের ব্যবস্থা এবং মানবপাচারের মতো অপরাধের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছে।







