শুক্রবার ৩৯ বছরে পদার্পণ করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন সংগঠনটি। নানা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেন মঞ্চ নাটকের শিল্পীরা। ‘অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সংস্কৃতি’ স্লোগান নিয়ে গ্রুপ থিয়েটার দিবসে উদ্যাপন শুরু হয় সেমিনারে আলোচনার মধ্য দিয়ে।
শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে ‘গ্রুপ থিয়েটার চর্চা ও আগামীর থিয়েটার’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা করেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকী, নাট্যজন ইনামুল হক, নাসিরউদ্দীন ইউসুফ, চন্দন রেজা, অভিজিৎ সেনগুপ্ত প্রমুখ। বেলা তিনটায় একাডেমির নন্দন মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিকেল চারটায় ছিল গ্রুপ থিয়েটার দিবসের আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল কামাল বায়েজীদ। সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নাট্যজন লিয়াকত আলী লাকী। বিকেল সাড়ে চারটায় ছিল গ্রুপ থিয়েটার দিবসের আনন্দ শোভাযাত্রা এবং সন্ধ্যায় মঞ্চশিল্পীদের মিলনমেলা, আড্ডা ও গানের অনুষ্ঠান। বাউল শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে শেষ হয় গ্রুপ থিয়েটার দিবসের আয়োজন।
সংলাপ ও অভিনয় নাটককে বর্তমান বিশ্বজুড়ে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে বলে স্মারক বক্তৃতায় উল্লেখ করেন আবদুস সেলিম। কিন্তু এমন নাটক কখনোই বিলীন হবে না বা হতে দেওয়া উচিত হবে না। তবে নিরীক্ষা তো থাকবেই। থিয়েটার আসলে গ্লোবাল, সে জন্য বৈশ্বিক পরিবর্তনের ঝাঁজ বাংলার মঞ্চেও লাগা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
গ্রুপ থিয়েটারের প্রতিষ্ঠা বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সেলিম বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী প্রতিকূল পরিবেশেও দেশের নাট্যচর্চা থেমে ছিল না। এ ভূখণ্ডের নাট্যচর্চার ইতিহাস স্বাধীনতার পর আরও বেগবান হয়েছিল। সামরিক শাসনের পাঁচ বছরের মাথায় গ্রুপ থিয়েটারের একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। যার পথ ধরে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।








