চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

৭১ কবিতায় শিমুল মুস্তাফার আবৃত্তি সন্ধ্যা

‘আপোস করিনি কখনোই আমি এই হল ইতিহাস’-শিরোনামে শিমুল মুস্তাফার একক আবৃত্তি সন্ধ্যা

‘আপোস করিনি কখনোই আমি, এই হলো ইতিহাস’ সৈয়দ শামসুল হকের লেখা কবিতার এই লাইনটিকে ধারণ করে ১৮ জানুয়ারি শুক্রবার ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আবৃতি শিল্পী শিমুল মোস্তাফা’র একক আবৃত্তি সন্ধ্যা।

ছাত্রজীবন থেকেই স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক মুক্তির জন্য শিমুল মুস্তাফা কণ্ঠ এবং কবিতাকে করেছেন প্রধান হাতিয়ার। এই হাতিয়ার দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিবছর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমির আয়োজনে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের মুক্তমঞ্চে শিমুল মুস্তাফা আবৃত্তি করেন ৭১টি কবিতা।

প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানটি বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে হলেও এ বছর কেন জানুয়ারিতে? এমন প্রশ্নের জবাবে বৈকুণ্ঠ আবৃত্তি একাডেমির সমন্বয়ক অলি আহমদ পল্লব বলেন, এবারের আয়োজনটি হওয়ার কথা ছিল গত ডিসেম্বর মাসেই। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের কারণে সেসময় অনুষ্ঠানটি করা সম্ভব হয়নি। তাই আগামী ১৮ জানুয়ারি নবমবারের মতো রবীন্দ্র সরোবরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আবৃত্তির সেই মহাযজ্ঞ।

ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজদের সাথে আপোস করেননি ক্ষুদিরাম বসু, মাস্টারদা সূর্যসেনসহ এমন আরো অনেক বীর বাঙালি। ১৯৫২ সালেও রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে আপোস করেননি রফিক, জব্বার, সালামসহ অন্যরা। একাত্তরে ৭ কোটি বাঙালিকে সঙ্গী করে পাকিস্তানের সাথে আপোস করেননি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

Advertisement

এভাবেই একের পর আন্দোলন করে আপোষহীন থেকে বাঙালি পেয়েছে স্বাধীনতার টকটকে লাল সূর্য । বাঙালি ও বাংলাদেশের ইতিহাস যেন আপোষহীনতারই ইতিহাস। তাইতো স্বাধীনতার চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখেই সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের আমার পরিচয় কবিতার ‘আপোস করিনি কখনোই আমি এই হল ইতিহাস’এই লাইনটিকে একান্ত নিজের করে নিয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী শিমুল মুস্তাফা।


তিনি বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারো রবীন্দ্র সরোবর সাজবে লাল সবুজের রঙে। একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদকে স্মরণ করে নতুন প্রজন্মের হাতে আলোকবর্তিকা তুলে দিয়ে প্রজ্জ্বলণ করা হবে ১৯৭১টি মোমবাতি, শতকণ্ঠে ধ্বনিত হবে  ‘সব ক’টা জানালা খুলে দাও না’–গানটি।

অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেয়ার জন্য সাধারণ দর্শকদের পাশাপাশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে শিশুদের। শিশুদের মাঝে একাত্তরের চেতনা এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলন ছড়িয়ে দিতেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন আয়োজকরা।

এবারের আয়োজনটিতে সহযোগী হিসেবে আছে আড়ং ডেইরি, ইলেক্ট্রা ও ইয়ুথ বাংলা কালচারাল ফোরাম।