চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ
Partex Cable

জীবনের ৪৭তম বছর সবচেয়ে খারাপ বয়স

Nagod
Bkash July

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশগুলোতে মানুষের জীবনের ৪৭.২তম বছর সবচেয়ে খারাপ বয়স বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকনোমিক রিসার্চে প্রকাশিত এক পেপারে বলা হয়েছে, এই বয়সে মানুষ সবচেয়ে কম সন্তুষ্ট বোধ করে।

Reneta June

ওইসময়ে তারা কোথায় আছে বা তাদের সার্বিক স্বাস্থ্য কেমন আছে সেসব তেমন প্রভাব ফেলে না। আর যেসব দেশ উন্নয়নশীল সেখানে এই বয়সটা ৪৮.২ বছর।

ডার্টমাউথ কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক প্রফেসর ডেভিড ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার দীর্ঘ সময় জীবনের সন্তুষ্টি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বছরের পর বছরের গবেষণা শেষে এই তত্ত্বে দাঁড়িয়েছেন যে, আমাদের সুখ সময়ের সাথে সাথে ইংরেজী ‘ইউ’ আকৃতির হয়ে পড়ে।

বাঞ্চফ্লাওয়ার অনেক বেশি পরিমাণে তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সুখের এই বাঁক ১৩২টি দেশে সংগ্রহ করেন। যদিও বাঁকটি জাতি থেকে জাতিতে আলাদা তবে দেখা গেছে তার মূল বিষয়গুলো একই রকম।

জেনারেল সোশ্যাল সার্ভের পরিচালিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সালে দেখা গেছে, যখনই মানুষের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তখনই সুখ সত্যিকারের মুক্ত পতনে পড়ে যায়। একজন মার্কিনী ১৮ বছরের জীবনের আশাবাদ থেকে যখন মধ্য জীবনে পা দেয় তখন এমনটা ঘটে।

ত্রিশ মানেই উচ্ছল সমৃদ্ধ বছর, বিষয়টা তেমন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে কিন্তু ত্রিশের পর থেকে সুখের মাত্রা নিচের দিকে নামতে শুরু করে আর সেটা একেবারে নিচের দিকে গিয়ে ঠেকে ৪০ দশকের শেষের দিকে।

নিজের গবেষণার পক্ষে তিনি বেশি বেশি ব্যাখ্যা না দিলেও বেশ কঠোর প্রমাণ পাওয়া গেছে সুখের বক্ররেখার অন্তত ৩২টি দেশে, সেটা কোনো রূপকথা নয়। অন্যদের মতে, যদিও এখানে বিজ্ঞানটা বোঝা যায়নি কিন্তু প্রসঙ্গ ও অনুমানের বেশ সম্মেলন এখানে পাওয়া গেছে। 

সাংবাদিক জোনাথন রাউচ এই খুশীর বক্ররেখা নিয়ে বইও লিখেছেন। সেখানে ৪০ এর দশকের অতিমন্দা নিয়েও আলোচনা আছে। মার্কেটওয়াচে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওরাংওটাং ও শিম্পাঞ্জীদেরও মধ্যবয়সের অতিমন্দা রয়েছে।

রাউচ পরামর্শ দেন, এই বয়সটা রূপান্তরের তবে সেটাকে কোনো সংকট পয়েন্ট হিসেবে ভাবা ঠিক হবে না। এই সময়ে আমাদের মূল্যবোধ ও মস্তিস্কের পরিবর্তন হয়। সেটা হতাশাজনক কারণ তাতে কখনো সন্তুষ্ট বোধ করা যায় না আর মধ্যবয়সে যেতে যেতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি।

৩০ থেকে ৪০ এর দশকে মস্তিস্ক সঙ্কুচিত হতে শুরু করে। আর ষাটের দশকে সেটা আরো তীব্র হয়ে পড়ে। পুরুষের যৌন হরমোন টেসটোসটেরন এবং নারীর ইস্ট্রোজেন ৩০ এর পরেই কমতে শুরু করে। এবং সেই পরিবর্তনটা তীব্রভাবে নজরে পড়ে ৪০ এর পরে।

তাই বলে একেবারেই আশা নেই এমন নয়। কিছু সময় পরে সুখের মাত্রা আবার ফিরে আসে। ২০এর দশকের সুখ আবার ফিরে আসে ৭০ এর দশকে। তাই কোথায় আপনি বাস করেন বা মধ্য বয়সটা কতটা অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিলো সেটা খুব বড় বিষয় না। সুখের বাঁক সবখানেই আছে। এমনটাই মন্তব্য ব্লাঞ্চফ্লাওয়ারের।

BSH
Bellow Post-Green View