চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অভিজিৎ রায় হত্যায় ফারাবীর সম্পৃক্ততা পেয়েছে পুলিশ

মুক্তমনা ব্লগের সঞ্চালক ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার পরে বিভিন্ন সময়ে আটক ৮ জনের মধ্যে শুধু ফারাবীর সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে পুলিশ। এই অবস্থার মধ্যেই আগামী বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারির আগেই অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার সফল তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে হলি আর্টিজান হামলা মামলার তদন্ত ও ব্লগার, প্রকাশক হত্যার মামলার সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

Reneta June

মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, ২৬শে ফ্রেবুয়ারির আগেই অভিজিত রায় হত্যা মামলার সফল তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারবো। এছাড়া জুলহাজ মান্নান-তনয় হত্যার ক্ষেত্রে রহস্য যেহেতু রহস্য উদঘাটন হতে শুরু করেছে তার প্রতিবেদন দিতে কিছুটা সময় লাগবে।

বিজ্ঞাপন

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অভিজিৎ রায় হত্যার পর র‌্যাবের সহায়তায় গ্রেফতার হওয়া ৮ জন আসামী সর্ম্পকে মনিরুল বলেন: আমরা তদন্তে দেখতে পাই ফারাবি ছাড়া কারো সম্পৃক্ততা মেলেনি। তারা কেউই এই ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়নি। আমরা ডিএনএ প্রোফাইল মিলিয়েও তাদের সম্পৃক্ততা পাইনি বা কোন সাক্ষ্য প্রমাণেও তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করতে পারিনি। উষ্কানির ক্ষেত্রেও ফারাবির ভূমিকা ছিল। যে কিলার গ্রুপ ছিল এদের তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে আগেই চিহ্নিত করেছিলাম। বিশেষ করে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কিছু পুরষ্কারও ঘোষণা করেছিলাম।

শফিউর রহমান ফারাবী
শফিউর রহমান ফারাবী

ওই অপারেশনে যে নেতৃত্ব দিয়েছিল মুকুল রানা ওরফে শরীফ, তাকে আমরা গ্রেফতারের চেষ্টা করলে নিহত হয়। বাকি যেই নামগুলো ছিল সেগুলোর অনেক নাম ছিল সাংগঠনিক নাম। সিটিটিভিতে তাদের চেহারাও ছিল অস্পষ্ট। আগে ঘটনাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছিল।

তিনি বলেন, গত এক মাস আগে অভিজিৎ রায় ও জুলহাজ মান্নান হত্যার তদন্তভার কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। আমরা অভিযান চালিয়ে চারজন আসামীকে গ্রেফতার করতে পেরেছি যাদের তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মুকুল রানার নেতৃত্বে তারা অপারেশনটি পরিচালনা করেছিল। সেখানে একেক জনের একেক ধরনের ভূমিকা ছিল। সুনির্দিষ্টভাবে সেগুলো এসেছে। আগে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে যেই তথ্য পেয়েছিলাম সেটা স্বীকারোক্তির সঙ্গে পুরোপুরি মিলে গিয়েছে। ফলে বলা যায় অভিজিৎ রায় হত্যা মামলাটির রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। একজন এখন রিমান্ডে রয়েছে। সেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চায়।

অভিজিৎ রায়

জুলহাজ মান্নান হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের শেষ দিকে জুলহাজ মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যা মামলাটির ঘটনায় একজন আসামী গ্রেফতার ছিল। ঘটনার সঙ্গে সে সরাসরি জড়িত না থাকলেও হত্যাকারীদের একটি অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। এই অভিযোগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। একজন আসামী তার কাছে আশ্রয়ও নিয়েছিল। সেই ঘটনাটিতেও একজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

কুরিয়ার সার্ভিসের কথা বলে জুলহাজ মান্নানের বাসায় হত্যাকারীরা প্রবেশ করেছিল। একজনের গ্রেফতারে বাসায় অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার থেকে সেই ভূয়া কুরিয়ার সার্ভিসের কাগজ পত্র তৈরির সরঞ্জাম পেয়েছি। মোজাম্মেল হোসেন সায়মন নামের একজন সন্ত্রাসী রয়েছে। ব্লগার, প্রকাশক ও অনলাইন অ্যাকটিভিষ্ট হত্যার পর দায় স্বীকারের বিষয়টি সে করতো। জুলহাজ মান্নানের সব তথ্য বের করে দেবার কাজ সে করেছে। অন্যান্য আসামীর নামও বের হয়ে এসেছে।

মনিরুল বলেন, হত্যাকারীরা মুক্তমত প্রকাশের বিরোধী। অভিজিত রায়কে আদর্শের বিরোধে হত্যা করা হয়।তার বই প্রকাশ করার জন্য প্রকাশক দীপনকে হত্যা করা হয়। আহমেদুর রশীদ টুটুলকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। হত্যাকারীদের কথিত ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করায় এমনটি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাছাড়া দীপনসহ অন্যান্য ব্লগার, প্রকাশক হত্যার রহস্যও উদঘাটন হয়েছে। তাছাড়া নাজিম হত্যার ঘটনায়ও কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।