চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘হেডমাস্টার’ ল্যাঙ্গারে ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়ানরা!

ভারতের কাছে ঘরের মাটিতে সিরিজ হারের পর আতস কাঁচের নিচে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের কোচিং। অস্ট্রেলিয়া দলের সিনিয়ররা তার কোচিংয়ের ধরনে সন্তুষ্ট নন, এমন প্রতিবেদন করেছে সিডনি মর্নিং হেরাল্ড। ল্যাঙ্গারের হেডমাস্টারের মতো আচরণ ক্রিকেটারদের মন বিষিয়ে তুলেছে লেখা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে ভারতের কাছে হারের পর ল্যাঙ্গারের দল পরিচালনার ধরন আর ক্ষণে ক্ষণে মেজাজ পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা, মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমন। প্রধান কোচ ও নির্বাচকের দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়া সাবেক ওপেনার তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে যোগ্য কোচ নন বলেও মনে করেন অনেক অজি ক্রিকেটার।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

‘অস্ট্রেলিয়ায় চলতি গ্রীষ্মে ল্যাঙ্গারের দল পরিচালনা নিয়ে কয়েকজন ক্রিকেটারের সঙ্গে কোচের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। দিনের পর দিন জৈব নিরাপত্তা বলয়ে থাকার পর কয়েকজন ক্রিকেটার কোচের মেজাজ পরিবর্তন ও বেশি বেশি হস্তক্ষেপের কারণে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলেন। ড্রেসিংরুমে কোচের হঠাৎ হঠাৎ এই মেজাজ পরিবর্তনের ফলে কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন। তারাই জানিয়েছেন, লাঞ্চ বিরতিতে এসবের প্রভাব পরিসংখ্যানসহ চাপ হয়ে উঠত বোলারদের উপরেও। গ্যাবায় ভারতের বিপক্ষে চতুর্থ টেস্টেও তা লক্ষ্য করা গেছে।’ এমন লেখা হয়েছে প্রতিবেদনে।

ল্যাঙ্গারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নতুন কিছু নয়। ২০১৮-১৯ মৌসুমে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতেও কোচকে মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন অধিনায়ক টিম পেইন। ব্যাটসম্যান উসমান খাজা খেলোয়াড়দের প্রতি ‘ইতিবাচক’ আচরণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। খেলোয়াড়রা তাকে ভয় পায় বলেও সরাসরি ল্যাঙ্গারকে বলেছিলেন খাজা।

বিজ্ঞাপন

ল্যাঙ্গারের আচরণের কারণে অজি ক্রিকেটারদের কাছে দিন দিন গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে বোলিং কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের, এমন দাবি করা হয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যমে। যেকোনো সমস্যা সমাধানে ক্রিকেটাররা ম্যাকডোনাল্ডের কাছে ছুটে যান।

প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, ‘ক্রিকেটাররা ল্যাঙ্গারকে কোচ হিসেবে সম্মান করে, সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে শ্রদ্ধা করে। কিন্তু দলের অনেক ক্রিকেটারই সহকারী কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের সহায়তা চায় সমস্যা এড়াতে। কারণ কোচের হেডমাস্টারের মতো মনোভাব, আচরণ এবং চাপের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারা অনেক ক্রিকেটারেরই পছন্দ নয়।’

ওই প্রতিবেদনকে অবশ্য পাত্তা দেননি ল্যাঙ্গার। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি ‘সত্যের অপলাপ’ উল্লেখ করে কোচের দাবি, ‘যদি খেলোয়াড়রা বারংবার অন্য কাউকে কোচ হিসেবে চায়, তাহলে আমি আমার দায়িত্বই ঠিকমতো পালন করছি না।’

গ্যাবা টেস্টে এক ক্রিকেটারকে ল্যাঙ্গার অভ্যাসমতো মাঠে টোস্ট করা স্যান্ডউইচ নিয়ে যেতে বাঁধা দিয়েছেন বলে লিখেছে পত্রিকাটি। এটিরও জবাব দিয়েছেন ল্যাঙ্গার।

‘ক্রিকেটারদের বলেছি তোমরা ভারতের বিপক্ষে হাঁটছো, আমরা এখানে জিততে এসেছি। অথচ আমাদের একজন ক্রিকেটার তখন হাতে স্যান্ডউইচ নিয়ে হাঁটছে। তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তুমি এটা কীভাবে পারছ? কোচ হিসেবে আমি কী এটাও বলতে পারবো না?’