চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হুতি বিদ্রোহীদের শান্তি প্রস্তাব, স্বাগত জানালো জাতিসংঘ

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে সব ধরনের হামলা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রস্তাব বিদ্রোহীদের যুদ্ধ বন্ধ করার আগ্রহের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।

বিজ্ঞাপন

টেলিভিশনে প্রচারিত এক ঘোষণায় হুতির সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের প্রধান মাহদি আল-মাশাত বলেছেন, বিদ্রোহী দলটি সৌদি আরবের ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করে দেবে। কিন্তু তার জন্য সৌদিকেও হামলা বন্ধ করতে হবে।

‘আমাদের শান্তি প্রচেষ্টার কোনো জবাব না পেলে আমাদেরও অধিকার আছে মাঠে ফিরে আমাদের সাথে যা করা হবে তার প্রতিক্রিয়া দেখানোর,’ বলেন তিনি।

ইয়েমেনের সবগুলোর রাজনৈতিক, যোদ্ধা ও বিদ্রোহী দলকে ‘সমন্বিত জাতীয় মীমাংসা’র জন্য কাজ করার আহ্বান জানান মাহদি আল-মাশাত।

এর জবাবে শনিবার ইয়েমেন ইস্যুতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত মার্টিন গ্রিফিথস বিদ্রোহীদের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে সংঘাতের একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গ্রিফিথসের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে: বিশেষ দূত এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়ে সামনে এগোনোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করছেন, যেন সহিংসতা, সামরিক সংঘাত এবং অসহযোগী বাদানুবাদ কমিয়ে আনা যায়।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত সৌদি আরামকো’র আবক্বাইক্ব এবং খুরাইসে অবস্থিত দু’টি স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে হুতি বিদ্রোহী দল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং সৌদি সরকার এই দাবি মানতে নারাজ। হামলার জন্য দেশ দু’টির সরকার ইরানকে দায়ী করছে।ইয়েমেন-সৌদি আরব-হুতি বিদ্রোহী

অবশ্য ইরান হামলায় যে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।

এর আগেও গত কয়েক মাসে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির সীমান্তবর্তী বিমান ঘাঁটিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে পর পর বেশ কয়েকটি মিসাইল এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনে চলমান গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে লাখো মানুষ, যাকে বলা হচ্ছে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবসৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়।

সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন বন্ধু দেশগুলোর জোট বাহিনী ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার মাধ্যমে ইয়েমেনে চলমান সংঘাতকে ভয়ানকভাবে বাড়িয়ে তোলে। জবাবে হুতিরাও উপসাগরীয় এ সাম্রাজ্যকে লক্ষ্য করে বহুবার ড্রোন, মিসাইল এবং রকেট হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর বিষয়েও হুতিদের বক্তব্য, ইয়েমেনে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলা ও যুদ্ধের প্রতিশোধ হিসেবে হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

Bellow Post-Green View