চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘হিজড়া আতঙ্ক’: পুনর্বাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন

‘প্রকৃত হিজড়া’দের প্রতি পূর্ণ সম্মান, শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতা রেখে এবং তাদের সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসার দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এই অভিজ্ঞতাটি লিখছি। ‘প্রকৃত হিজড়া’র মানে হলো, যাদের নিয়ে এই নিবন্ধের অবতারণা, তাদের মধ্যে কতজন প্রকৃত হিজড়া আর কতজন প্রতারক—তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, রাস্তার মোড়ে যারা দল বেঁধে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে, তাদের মধ্যে অনেকেই হিজড়া নয়, এরকম কথা শোনা যায়। তাছাড়া হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য যে প্রকল্প আছে, সেটি আদৌ বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা বা হলে এখনও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কেন দল বেঁধে মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে, সে প্রশ্নও আছে।

হিজড়াদের প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমে সাংবাদিক/প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছিল কমিউনিটি রেডিও। কমিউনিটি মিডিয়া ফেলোশিপের আওতায় বেশ কয়েকজন হিজড়াকে বিভিন্ন কমিউনিটি রেডিওতে ফেলোশিপ দেয়া হয় যারা সংশ্লিষ্ট রেডিও স্টেশনের জন্য প্রতিবেদন ও ফিচার তৈরি করেন। বিশেষ করে নিজেদের কমিউনিটির নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ তারা নিজেরাই তুলে আনেন। যা নিয়ে বিভিন্ন কমিউনিটি রেডিওতে বিশেষ অনুষ্ঠানও প্রচার করে থাকে। এরকম কয়েকজন হিজড়া ফেলোর মেন্টর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, হিজড়াদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখলে এবং তাদেরকে অচ্ছ্যুৎ না ভেবে তাদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসতে চাইলে অধিকাংশই এরকম বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মানুষকে জিম্মি করে চাঁদা আদায়ের পক্ষে নন। কিন্তু একটি বিশাল দুষ্টচক্র এবং হিজড়ার আদলে একশ্রেণির প্রতারকের কারণে এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের সম্পর্কে সমাজে একটি নেতিবাচক ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রকৃত হিজড়াদের কেউ কেউ বলেছেন, রাজধানীতে অনেক ‘নকল হিজড়া’ আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা।হিজড়া

বিজ্ঞাপন

এই লেখাটি যারা পড়ছেন, তাদের অনেকেই হয়তো রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পশ্চিমপ্রান্তে, খোদ সংসদ ভবন এলাকা, আগারগাঁও মোড়, পান্থপথ সিগন্যালসহ বিভিন্ন এলাকায় হিজড়াদের কবলে পড়েছেন। তারা মূলত ট্রাফিক সিগন্যালের সুযোগ নিয়ে রিকশা, গণপরিবহন ও প্রাইভেট কারে বসে থাকা লোকজনের কাছে গিয়ে শুরুতে আপাতদৃষ্টিতে মার্জিত ভাষায় টাকা দাবি করেন। ঝামেলা এড়াতে অধিকাংশ লোকই তাদের টাকা দিয়ে দেন। কিন্তু যখন কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন বা হিজড়াদের সঙ্গে তর্কে জড়ান, তখন বিপরীত দিক থেকে নানাবিধ অশ্রাব্য গালাগাল ভেসে আসে। এরকম তিক্ত অভিজ্ঞতা রাজধানীর বহু মানুষের হয়েছে। ভিক্ষুকদের সাথে হিজড়া বা যারা হিজড়া সেজে এভাবে চাঁদাবাজি করেন, তাদের মূল পার্থক্য হলো, ভিক্ষুকদের দুই টাকা দিলেও তারা নিয়ে যায়। কিন্তু হিজড়ারা দশ টাকার নিচে দিলে গ্রহণ করে না এবং দশ টাকার কম দিলে তারা কটু কথা শোনায়। খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় তারা এই কাজ করে এবং মূলত নাগরিকরা তাদের ভয় করে বলে বারবারই তাদের টাকা দিয়ে দেয়। পুরো রাজধানীতে এরকম কয়টি গ্রুপ চাঁদাবাজি করে এবং তাদের মাসিক আয়ের পরিমাণ কত—তা নিয়ে একটি গবেষণা হতে পারে। বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে হিজড়াদের এই চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের কাছে কথা বলেছি। তারাও হিজড়াদের বিষয়ে কথা বলতে স্বস্তিবোধ করেন না।

হিজড়াদের সম্পর্কে সমাজের মানুষের সামগ্রিক ধারণা অত্যন্ত নেতিবাচক। অথচ তাদের জন্মের পেছনে তাদের নিজেদের কোনো হাত ছিল না। কিন্তু জন্মের পরপরই হয় তাদের পরিবার তাদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে কিংবা হিজড়ার দল এসে তাদের দল ভারী করার জন্য নিয়ে গেছে। পথে-ঘাটে, হাটে-বাজারে, স্টেশন বা পার্কে মেয়েলি সাজে দল বেঁধে চলা এই মানুষগুলোর জীবন যে কত দুঃখ কষ্টে গড়া, কী ভীষণ কষ্টের পাথর বুকে চেপে তারা প্রতিটি দিন পার করেন, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কারো পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডের আড়ালে এই বিশাল বেদনার ইতিহাসটি চাপা পড়ে যায়। আবার তারা যে কাজটি করে, সেটিও তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রামেরই অংশ। আশার কথা, হিজড়াদের সমাজের মূল স্রোতধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২০১৩ সালের ১১ নভেম্বর তাদের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ‘হিজড়া’ নামেই সম্বোধন করা হয়। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। যদিও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ২০ থেকে ৫০ হাজার। কারো কারো মতে এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তৃতীয় লিঙ্গের বা হিজড়াদের অবস্থান দৃঢ় হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ২০১১-১২ সালে তৃতীয় লিঙ্গের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি সর্বপ্রথম হিজড়া জনগোষ্ঠীকে অনির্ধারিত লিঙ্গ হিসেবে জন্ম সনদ নিবন্ধনের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেয়। ভারত ২০১৪ সালের এপ্রিলে তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেয় এবং পাকিস্তান সরকারও ২০০৯ সালে হিজড়াদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রণয়ন করে। ভারত, পাকিস্তান ও নেপালে অনেক আগেই থার্ড জেন্ডারদের পরিচয় স্বীকার করে তাদের ভোটাধিকার ও কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক অধিকার দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হিজড়াদের সরকারি চাকরির জন্য আবেদন করতে আমন্ত্রণ জানায়। এরপরের বছর ২০১৫ সালের ৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক হিজড়া উদ্যোক্তাদের এসএমই খাত থেকে ঋণ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নকশিকাঁথা ও তাঁত, নার্সারি, নির্মাণ শিল্প ও গৃহায়ন, হাসপাতাল ও ক্লিনিক, বিস্কুট ফ্যাক্টরি, হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন, সেলুন ও বিউটি পার্লার প্রভৃতির জন্য ঋণ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

হিজড়াদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনতে ২০১২-২০১৩ অর্থবছর থেকে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর, পটুয়াখালী, খুলনা, বগুড়া ও সিলেট জেলায় একটি কর্মসূচি শুরু হয়। ওই অর্থবছরে হিজড়াদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭২ লাখ ১৭ হাজার টাকা। এর পরের অর্থবছরে নতুন ১৪টি জেলাসহ ২১টি জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়। ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৪ কোটি ৫৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এরপর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৪ জেলায় কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হিজড়াদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয় ১১ কোটি টাকা।

সরকারের এই প্রকল্পের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, স্কুলগামী হিজড়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪ স্তরে (জন প্রতি মাসিক প্রাথমিক ৩০০, মাধ্যমিক ৪৫০, উচ্চ মাধ্যমিক ৬০০ এবং উচ্চতর ১০০০ টাকা হারে) উপবৃত্তি প্রদান; ৫০ বছর বা তদুর্ধ বয়সের অক্ষম ও অসচ্ছল হিজড়াদের জনপ্রতি মাসিক ৬০০ টাকা বিশেষ ভাতা প্রদান; বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম হিজড়া জনগোষ্ঠীর দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে তাদের সমাজের মূল স্রোতধারায় নিয়ে আসা এবং প্রশিক্ষণ শেষে ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান। কিন্তু এই অর্থ কতজন হিজড়ার পুনর্বাসন হয়েছে, কতজন রাস্তায় চাঁদাবাজি বন্ধ করে সম্মানজনক কাজে যুক্ত হতে পেরেছেন, সেই পরিসংখ্যানটাও এখন জরুরি। এর পাশাপাশি হিজড়াদের ট্রাফিক পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ে হিজড়াদের নিয়োগের বিষয়ে সরকারের তরফে ঘোষণা দেয়া হলেও তা এখনও কার্যকর হয়নি।

২০১৪ সালে ৭টি প্রতিষ্ঠানে হিজড়া নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। ওই সময় চাকরিতে আবেদন করার পর একজন হিজড়াকে মেডিকেল পরীক্ষার (আসলে হিজড়া কি না যাচাইয়ের জন্য) জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি মেডিকেল থেকে পালিয়ে যান। এরপর আর বিষয়টি তেমন এগোয়নি।

অনেকেই মনে করেন, চাকরিতে যোগ দেয়ার ব্যাপারে হিজড়াদেরও অনীহা রয়েছে। হিজড়াদের নিয়ে কাজ করেন এরকম সংগঠনের সাথে যুক্ত অনেকেই মনে করেন, সামাজিক বাস্তবতায় হিজড়াদের অধিকাংশই পড়ালেখার সুযোগ পান না। ফলে তারা কী করে ট্রাফিক পুলিশের চাকরি করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এজন্য সরকারের উদ্যোগেই তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা দরকার। প্রয়োজন তাদের জন্য বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা যেতে পারে।

তবে সবার আগে প্রয়োজন হিজড়াদের সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং তাদের ব্যাপারে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। ভারতে শবনম মৌসি নামে একজন হিজড়া লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের প্রার্থী হয়েছিলেন সুমি নামে একজন হিজড়া। যদিও তিনি জয়ী হতে পারেননি। ভোটে জিতলে হিজড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

ওই বছর সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভায়ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিথী নামে আরেকজন হিজড়া প্রার্থী। তখন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আমার ছেলেপুলে নাই। খাওনের কেউ নাই। জিতলে আমি জনগণের সেবা করব। বিদ্যুৎ আনার ব্যবস্থা করব। রাস্তাঘাট করব। আর্সেনিক মুক্ত কল করনের লাইগ্যা সহযোগিতা করব।’

হিজড়াদের বড় সংকট পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা এবং এ কারণে তারা সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। অনেক স্বচ্ছল পরিবার থেকে আসা হিজড়াও নিজেদের পরিচয় প্রকাশে লজ্জা বোধ করেন। ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর বাংলা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদনে শাম্মী নামে এক হিজড়ার বরাত দিয়ে লেখা হয়, ‘তাদের অনেক সম্পত্তি; কিন্তু সেখান থেকে তাকে কিছুই দেওয়া হয়নি। সব কিছু ভাইয়ের নামে। বসতবাড়ি ছাড়াও অন্যখানে একখণ্ড জমি রয়েছে তাদের। সেখানে একটা ঘর করতে চেয়েছিলেন শাম্মী। কিন্তু তাও তার ভাই করতে দেননি। বাধ্য হয়ে তিনি ডেরায় (হিজড়াদের বাসস্থান) থাকেন।’

ফলে বেঁচে থাকার জন্য হিজড়াদের চাঁদাবাজি যেমন একটি নির্মম বাস্তবতা, তেমনি অনেক ভুয়া হিজড়াও এই সুযোগে এটিকে বিকল্প পেশা হিসেবে নিয়ে পয়সা কামাচ্ছে। ফলে এই সমস্যা সমাধানে কোনো আপদকালীন ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং এমন একটি আইন প্রণয়ন যাতে কোনো পরিবারে হিজড়া সন্তানের জন্ম হলে ওই পরিবার তাকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে না পারে। অর্থাৎ পরিবারের অন্য স্বাভাবিক সন্তানদের সাথেই হিজড়া শিশুও বেড়ে উঠবে—সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আইনের কঠোর প্রয়োগ। অভিভাবকদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা দরকার। সেইসাথে নকল বা ভুয়া হিজড়াদের শনাক্ত করে রাস্তার মোড়ে তাদের চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর হওয়া দরকার।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

বিজ্ঞাপন