চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

কেমন আছেন প্রতুল মুখোপাধ্যায়?

হৃদয়ে তাঁর বাংলার গান:

শঙ্কামুক্ত প্রতুল মুখোপাধ্যায়, হাসপাতালে বসেও নিয়মিত গান গাইছেন-লিখছেন ‘আমি বাংলার গান গাই’ খ্যাত এই শিল্পী…

‘আমি বাংলায় গান গাই’-এই গানটির সাথে ঠোঁট মেলাননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া বিরল! আর এই গানটির সাথে জড়িয়ে আছে এক কিংবদন্তির নাম, তিনি প্রতুল মুখোপাধ্যায়। গানটির লিরিক, সুর ও কণ্ঠ সবই তাঁর। পশ্চিম বাংলার এই বিখ্যাত মানুষটির শারীরিক অবস্থা ভালো নেই। ২ মে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন তিনি। কিন্তু এসবের মধ্যেও থামানো যায়নি তার গানের জীবন, গানের যাপন!

সম্প্রতি প্রতুল মখোপাধ্যায়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। যেখানে তাঁকে দেখা যায়, পুরো আবেগ আর আন্তরিকতা দিয়ে গাইছেন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ও নিজেরই সুর করা ‘রবী ঠাকুরের গান’। এটা তাঁর জাত স্বভাব, তিনি যখন গান করেন তখন মন প্রাণ দিয়েই তা করেন!

বিজ্ঞাপন

কিন্তু ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির পেছনের গল্প শুনে যে কেউ বিস্মিত হবেন! কারণ যেদিন প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সিটি স্ক্যান ও ইইজি করা হয়, তার আগ মুহূর্তে আইসিইউতে বসে তিনি গলা ছেড়ে গেয়েছিলেন ‘আমি বাংলায় গান গাই’! তার সঙ্গে নাকি গলা মিলিয়ে ছিলেন হাসপাতালের অন্যান্য নার্সরাও!

এমনটাই কলকাতা থেকে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন কবি ও থিয়েটার কর্মী প্রসূন ভৌমিক। আর শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘রবী ঠাকুরের গান’-শিরোনামে হাসপাতালে বসে প্রতুলের গাওয়া যে গানটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, এটা তিনিই ভিডিও করে ছেড়ে ছিলেন।

প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন প্রসূন ভৌমিক। তার কাছে বিখ্যাত এই শিল্পীর সর্বশেষ খবর জানতে চাইলে শনিবার বিকেলে তিনি বলেন, প্রতুল দা’র হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হলে প্রথমে তাকে সল্টলেকের হার্ট ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খবর পেয়ে তার নির্দেশে পিজিতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে আইসিইউতে ভর্তি থাকেন প্রতুল দা, তারপর তার এনজিওগ্রাফি করা হয়। সেখানে তার দুটো ব্লক দেখা যায়। একটি হানড্রেট পার্সেন্ট, এবং অন্যটি ৭৫ পার্সেন্ট। তারপর এনজিওপ্লাস্টি দিয়ে দুটি ব্লকিং-ই মেরামত করা হয়।

বর্তমানে হাসপাতালে থাকলেও গানের সঙ্গেই তাঁর যাপন চলছে বলেও জানান প্রসূন ভৌমিক। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতুল দা সুস্থ আছেন। পিজিতে কার্ডিওলজি বিভাগের একটি এসি কেবিন তাকে দেয়া হয়েছে। সেখানে তিনি আছেন, প্রতিনিয়ত গান লিখছেন এবং গান গাইছেন।

মাত্র বারো বছর বয়সে কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায়ের একটি কবিতা সুর করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন প্রতুল। সেই থেকেই শুরু, থামেননি আর। ঘন্টার পর ঘন্টা কোনো বাদ্যযন্ত্র ছাড়াই খালি গলায় গান করে যান এই কিংবদন্তি গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী। তার গানে থাকে লড়াই সংগ্রাম আর আন্দোলনের কথা, থাকে অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার আহ্বান, থাকে প্রেম ও ভালোবাসার বার্তা!

‘আমি বাংলায় গান গাই’-প্রতুল মুখোপাধ্যায়কে বাংলা গানের জগতে অমরত্বের আসনে বসালেও তার গাওয়া আরো কিছু গান মানুষকে আন্দোলিত করেছে, আলোড়িত করেছে। এরমধ্যে ‘আলু বেচো, ছোলা বেচো, বেচো বাখরখানি/বেচো না বেচো না বন্ধু তোমার চোখের মণি।’ গানটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

Bellow Post-Green View