চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাওর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষিত

হাওর এলাকা ঘুরে গেলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এলেন সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণায়।ঘুরে গেলেন দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী মায়া। ঘুুরে গেলেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি। তারা বলে গেলেন বন্যা দুর্গত হাওর এলাকায় ব্যাংক ঋণ, এনজিও ঋনের কিস্তি স্থগিত।বলে গেলেন বিদ্যুৎ বিল স্থগিত। বলে গেলেন, পরবর্তী ফসল না ওঠা পর্যন্ত চাল বিতরণ ও নগদ টাকা বিতরণ চলবে।কিন্তু বাস্তবে এসব নির্দেশনা মানছেনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দুর্গত পরিবারে চাল বিতরণের পাশাপাশি চলছে এনজিওদে’র কিস্তি আদায়। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে লাইন কেটে দেয়ার হুমকি। চলছে বরাদ্দকৃত চালে অনিয়ম ও অাত্মসাতের ঘটনা।

ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমও আগের মতই। হাওর এলাকায় গেল নিরানন্দ ঈদ উল ফিতর। ঈদের উৎসবের আগে আগেই পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি মাইকিং করেছে বিদ্যুৎ বিল না দিলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে।সরকারি চাল বিক্রি করে বিদ্যুৎ বিল ও এনজিও’ র ঋণ পরিশোধ করতেও দেখা গেছে। ঈদের আগেই অনেক হাওরবাসী বঞ্চিত হয়েছে বিদ্যুৎ সেবা হতে। তবে কি এনজিও ও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মানতে বাধ্য নয়?

এনজিও’রা চালিত হয় মাইক্রোক্রেডিটের মুনাফা ও বিদেশী অনুদানের মাধ্যমে। পল্লীবিদ্যুত চলে স্বায়ত্তশাসিত সমিতির ভিত্তিতে। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের পল্লীবিদ্যুতের ব্যাপারে কী ভূমিকা? মন্ত্রণালয় কেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে মান্য করতে পল্লীবিদ্যুতকে বাধ্য করল না? এটা কি মন্ত্রনালয়ের উদাসীনতা না ক্ষমতাহীনতার ব্যর্থতা? পল্লীবিদ্যুত দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্যই নিত্যপ্রয়োজনীয় তা সত্ত্বেও এটিকে সায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাখার সরকারের ব্যাখ্যা কী?

দুর্দশাগ্রস্ত মানুষ শুধু ঘোষণা চায় না, চায় বাস্তবিক অর্থে দুর্দশা লাঘবে পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ।জনসমক্ষে ও মিডিয়াকে বলা আর বাস্তব কর্মপ্রক্রিয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়হীনতা কি মানবিক?

বিজ্ঞাপন

এনজিও ও পল্লীবিদ্যুতের বক্তব্য তারা এসম্পর্কিত কোন চিঠি পায়নি।এই ঘোষণার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কি মন্ত্রণালয়ের চিঠি দেয়া উচিত ছিলো না? সুতরাং মন্ত্রণালয়েরও হাওর এলাকার মানুষের জন্য আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বললে অত্যুক্তি হবেনা।বরাদ্দের ঘোষণাকে জনগরণর সামনে ও মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয় কিন্তু বরাদ্দের প্রয়োগ থাকে আড়ালে। বলা হলো, হাওরের বরাদ্দ আত্মসাতকারী কাউকেই ছাড় দেয়া হবেনা। কিন্তু বাস্তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগে কতজনকে আইনে সোপর্দ করা হল? কতোজন আত্মসাতকারীর নিকট হতে তাদের আত্মসাতকৃত বরাদ্দ উদ্ধার করা হয়েছে? দলের সভাপতি নির্দেশনা দিলে আর দল তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হলে তা কার্যকর হতে বাধ্য।

সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলে ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর তা বাস্তবায়নে আন্তরিক হলে তা কার্যকর হতে বাধ্য। মূলত আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতাই সমস্যার মূলে। হাওরের মানুষ যদি মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার যথার্থ প্রয়োগ পেত তবে হয়তো কিছুটা ঈদের আনন্দ পেতো। ৩০ কেজি চাল ও ৫০০ টাকা পেয়ে অনেককেই দেখা গেছে চাল বিক্রি করে এনজিও’র কিস্তি ও বিদ্যুৎ বিল দিতে। অনেককেই দেখা গেছে বিদ্যুতবিল পরিশোধ না করায় বিদ্যুৎবিহীন নিরানন্দ ঈদ উদযাপন করতে।এনজিও’রা কিস্তি পরিশোধ না করলে আর ঋণ পাবেনা বলে ঋণগ্রহীতাদের নিকট হতে কিস্তি আদায় করে চলেছে। তারা কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয় বলে কারও কাছে দায়বদ্ধও নয়।এনজিও বিষয়ক ব্যুরো রয়েছে কেবলই কাগজে কলমে।

সরকার কি এনজিও বিষয়ক ব্যুরোকেও কিস্তি মওকুফের বিষয়টা কার্যকর করতে কোন নির্দেশনা দিয়েছে? এই সংস্থাটির কতোটা কার্যকরিতা রয়েছে এনজিও’র উপরে।

বিগত দিনে দেখা গেছে এনজিও রা প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশও মান্য করেনি।এনজিও র বড় কর্তাদের অনেকেই চেয়েছিল সরকার হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করুক। তখন তারা দেশের বাইরে হতে সাহায্য আনতো হাওরবাসীর দুর্গতি দেখিয়ে। এনজিও জগতে এমন কিছু মধ্যসত্বভোগী সংস্থা রয়েছে যারা দেশের বাইরে হতে ডোনার সংগ্রহ করে প্রাপ্ত অর্থের একটি বৃহৎ অংশ নিজেরা রেখে বাকীটা তাদের পছন্দ মতো অন্যকোন সংস্থাকে দিয়ে দেয়।

অনুদান যে সংস্থাকে দেবে তার নিকট হতে গোপন আর্থিক সুবিধাগ্রহণের গুঞ্জনও শোনা যায়।এখানে নেই কোন সরকারি নিয়ন্ত্রণ।এনজিও’তে নেই কোন বেতন কাঠামো।যেসব সংস্থা ডোনার সংগ্রহ করে থাকে তাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা থাকে সর্বোচ্চ।আর যেসব সংস্থা প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করে তাদের বেতন ভাতা থাকে খুবই কম।দুর্গতি দেখিয়ে অনুদান সংগ্রহকারী বিভিন্ন এনজিও প্রকল্প হাওরবাসীর দুর্গতিতে কোন ভূমিকা রাখেনি। বরং তাদের মাদার এনজিও মাইক্রোক্রেডিট কর্তৃক তারা আরও হয়রানির শিকার হচ্ছে কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকও চলছে গতানুগতিক। বন্যায় সর্বস্ব  হারানো কৃষকদের তারা নতুন ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেনা।ব্যাংক কর্তৃপক্ষও কিস্তি স্থগিতের কোন চিঠি পায়নি বলে জানা যায়।বিবৃতি সর্বস্ব এই হাওরবাসীর সহযোগিতা মানুষ প্রত্যাশা করেনি।ব্যাংকগুলো কিস্তি স্থগিত করেনি। হাওরের মানুষকে বাঁচাতে পাশে দাঁড়ায়নি। শুধু ঘোষণা দিয়ে জনতার দুর্ভোগ দুর করা যায় না।দুর করা যায় দরদ দিয়ে, ভালবাসা দিয়ে। ভালবাসারই আকাল চলছে দেশে।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

বিজ্ঞাপন