চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হাইকোর্টের রায়ে কামরুলের মুক্তির দিশা

দুদকের ‘ভুল’ তদন্তে সাজা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তের ভুলে বিচারিক আদালতের রায়ের পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় দিশেহারা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম হাইকোর্টের রায়ে অবশেষে সাজা থেকে মুক্তির দিশা খুঁজে পেয়েছেন।

নোয়াখালী আদালতের সহকারী হিসেবে কাজ করা মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের সাজা বাতিল করে বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

নোয়াখালী সদর থানার পূর্ব রাজারামপুর গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে কামরুল ইসলাম নোয়াখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে এসএসসি পাসের ভুয়া মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র তৈরি করে ১৯৮৯-৯৯ সেশনে মাইজদী পাবলিক কলেজে ভর্তি হন।

ভুয়া মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র তৈরি অপরাধে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে একটি মামলা করে। এক দশক পর ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা ওই মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

এরপর বিচার কার্যক্রম শেষে নোয়াখালীর বিশেষ জজ শিরীন কবিতা আখতার ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বর রায় দেন। রায়ে আসামি কামরুল ইসলামকে পলাতক দেখিয়ে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় ৫ বছর করে মোট ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

এই দণ্ড একত্রে চলবে বলে রায়ের উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ আসামিকে জেল খাটতে হবে মোট ৫ বছর। কিন্তু তিনটি ধারায় দেয়া অর্থদণ্ড অর্থাৎ মোট ৩০ হাজার টাকাই দিতে বলা হয়। এছাড়া অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরো ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এক পর্যায়ে আসামির বিরুদ্ধে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এমন প্রেক্ষাপটে নোয়াখালীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতের সহকারী হিসেবে চাকরি করা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম জানতে পারেন তার নাম ঠিকানার আসামি গ্রেপ্তারে তৎপর হয়েছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন কামরুল ইসলাম। সেই রিট আবেদনে বলা হয়, যে কামরুল ইসলামের কারাদণ্ডাদেশ হয়েছে সে কামরুল ইসলাম তিনি নন। তবে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত
কামরুল ইসলাম ও তার বাড়ি একই উপজেলায়। এমনকি তাদের দুজনের বাবার নামও এক।

তবে ভিন্নতার জায়গা হলো রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের গ্রাম ‘পূর্ব’ রাজারামপুর। আর আসামি কামরুল ইসলামের গ্রাম ‘পশ্চিম’ রাজারামপুর। তাই রিট আবেদনকারী পূর্ব রাজারামপুরের মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে ১৯৯৮ সালের সেই ভুয়া মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র তৈরি মামলায় গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়াও রিট আবেদনে মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৮ সালে তার বয়স ছিল মাত্র আট বছর। তাই ওই বয়সে তো ভুয়া মার্কশিট ও প্রশংসাপত্র তৈরি করে কলেজে ভর্তির সুযোগই ছিল না। পরবর্তীতে সে নোয়াখালীর হরিনাথপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি পাস করেন।’

নোয়াখালীর আদালতের সহকারী মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের করা এই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। উচ্চ আদালত তার আদেশে রিটকারি মোহাম্মদ কামরুলকে কোনো ধরনের হয়রানি ও গ্রেপ্তার না করতে নির্দেশ দেন। সেই সাথে মোহাম্মদ কামরুলকে শনাক্তকরণ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে দুদককে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

সে অনুযায়ী গত ২৬ জানুয়ারি দুদক হাইকোর্টকে বলে এটা তাদের ‘সরল বিশ্বাসের’ ভুল। এরপর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রায়ের জন্য ২৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। সে ধারাবাহিকতায় আজ হাইকোর্ট তার রায়ে মোহাম্মদ কামরুল ইসলামেকে দেওয়া বিচারিক আদালতের সাজা বাতিল করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।

এছাড়াও এই মামলা তদন্ত সঠিক ভাবে না করায় দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। আর রিটকারি মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম যদি ক্ষতিপূরণ চেয়ে দুদকে আবেদন করে তাহলে দুদককে তা বিবেচনা করতে বলেছেন হাইকোর্ট।

আজ আদালতে মোহাম্মদ কামরুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।