চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

হলি আর্টিজান হামলায় সংশ্লিষ্ট জেএমবি নেতা গ্রেপ্তার

হলি আর্টিজান হামলার অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী হিসেবে অভিযুক্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ’র (জেএমবি) শুরা সদস্য মো. মামুনুর রশিদ ওরফে রিপনকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

শনিবার রাতে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকায় ঢাকামুখি একটি বাস থেকে তাকে আটক করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান মুফতি মাহমুদ খান জানিয়েছেন, র‌্যাবের একটি অভিযানে গাজীপুর থেকে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী এবং ওই হামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি জেএমবির অন্যতম শুরা সদস্য মো. মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে শনিবার দিবাগত রাত একটার দিকে গ্রেপ্তার হয়।

ঢাকাগামী বাস থেকে আটকের সময় তার কাছ থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের তথ্যকেন্দ্রে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব জানিয়েছে, হলি আর্টিজান মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদেরকে কারাগার থেকে আদালতে নেয়ার সময় ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা করছে জেএমবি।

এ মামলায় আসামিদের আদালতে শুনানী চলছে, সেই সুযোগে আবারো জঙ্গি সদস্যদের ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল রিপন। এর আগে রিপন ২০১৪ সালে ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা সংগঠনের সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধিতে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছিল।

হলি আর্টিজান হামলার আগে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে গিয়ে সেখান থেকে হামলায় ব্যবহৃত অর্থ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে রিপন। ২০১৮ সালের শুরুর দিকে দেশে ফিরে এসে স্তিমিত হয়ে যাওয়া জেএমবিকে পুনরায় সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলো সে।

মামুনুর রশিদ হলি আর্টিজান মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক আসামী এবং অর্থ, অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী।

গ্রেপ্তার মামুনুর রশিদ প্রাথমিক জিজ্ঞাসায় এই তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বগুড়ার বাসিন্দা রিপন ঢাকার মিরপুর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সর্বশেষ ২০০৯ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদ্রাসাতুল দারুল হাদিস থেকে দাওরা-ই হাদিস সম্পন্ন করে। এরপর সে বগুড়ার সাইবার টেক নামক একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কোর্স সম্পন্ন করে একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করে।

২০১৩ সালে পূর্ব পরিচিত ডা. নজরুলের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয় এবং ধীরে ধীরে সে জেএমবির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে রিপনের দায়িত্ব ছিল ইয়ানত (চাঁদা) সংগ্রহ করে ডা. নজরুলের নিকট পৌঁছে দেয়া। ডা. নজরুল সে সময়ে জেএমবির একাংশের আমীর ছিলো।

পরবর্তী সময়ে জেএমবির সারোয়ার জাহান গ্রুপের জন্য নতুন করে অর্থ ও সদস্য সংগ্রহ করার কাজ হাতে নেয় রিপন। এরই অংশ হিসেবে রিপন বিকাশের দোকান লুটসহ ছিনতাইয়ের ৮ লাখ টাকা সারোয়ার জাহানকে দেয় সে।

২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে তামীম চৌধুরী ও সারোয়ার জাহানের গোপন বৈঠকে উভয়ের মধ্যে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়। এ বৈঠকে রিপন জেএমবির সুরা সদস্য হিসেবে নিয়োজিত হয়। তার দায়িত্ব ছিল অর্থ সংগ্রহ, সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরণ সরবরাহ করা।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাইবান্ধাতে এক বৈঠকে হলি আর্টিজানে হামলার সিদ্ধান্ত হয়। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হামলার আগে এপ্রিল মাসে রিপন পার্শ্ববর্তী দেশে চলে যায়। সেখান থেকে হামলার আগে রিপন আনুমানিক ৩৯ লাখ টাকা সারোয়ার জাহানকে পাঠায়। হলি আর্টিজানে ব্যবহৃত তিনটি একে ২২ রাইফেল, পিস্তলসহ বিস্ফোরকগুলো কল্যাণপুরে পাঠায়। মারজানের মাধ্যমে এরপর সেগুলো সারোয়ার জাহানের কাছে পৌঁছায়।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলাতার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রিপন ছিলো এবং সেসব ঘটনা রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।

মুফতি মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন জঙ্গি হামলাগুলো পরিচালনার আগে মহড়া করে অনুশীলন করত। এ ধরনের একটি অনুশীলন মহড়া চলাকালীন সময়ে ২০১৬ সালের এপ্রিলে বগুড়ায় বিস্ফোরণে সুরা সদস্য ফারদিন ও অপর এক সক্রিয় জঙ্গি সদস্য তারিকুল ইসলাম নিহত হয়।

তিনি বলেন, হলি আর্টিজান পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশী অভিযানে জঙ্গিরা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। তখন আত্মগোপনে থেকে রিপন পুনরায় জঙ্গিদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। এ উদ্দেশ্যে সে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে জঙ্গিদের সংগঠিত করতে থাকে।

নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ম্পর্শকাতর স্থানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল। তবে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় এটা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে ত্রিশালে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনা সংগঠনের সদস্যদের উজ্জিবীত করতে সহায়তা করেছিল। যেহেতু এখন হলি আর্টিজান মামলা চলমান রয়েছে সেহেতু এরই মধ্যে আবারো একটি ঘটনা ঘটিয়ে জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল রিপনের।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতভর জিম্মি করে রেখে জঙ্গিরা দুই পুলিশ কর্মকর্তা, ৯ ইতালীয়, ৭ জাপানি, এক ভারতীয় ও এক মার্কিন নাগরিককে হত্যা করেছিল।

Bellow Post-Green View