চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বল্প পরিসরে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত স্থগিত

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেই স্বল্প পরিসরে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের আদেশক্রমে শনিবার জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ২৩ এপ্রিল প্রধান বিচারপতির আদেশক্রমে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত আদালত পরিচালনা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল: ‘‘দেশব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলা এবং বিস্তাররোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী ৫ মে পর্যন্ত দেশের সকল আদালতের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অতীব জরুরি বিষয়সমূহ শুনানির নিমিত্ত ছুটিকালীন সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: নুরুজ্জামান আপিল বিভাগের চেম্বার কোর্টে বসবেন।

বিজ্ঞাপন

আর ছুটিকালীন সময়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান সকল অধিক্ষেত্রের অতীব জরুরি বিষয় সমূহ শুনানির নিমিত্ত হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আর আদালত পরিচালনার কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং সামাজিক দূরত্ব অনুসরণের নিয়ম-কানুন বিষয়ে বিচারপতি মহোদয়গণ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।’’

এছাড়া দেশের অধস্তন আদালতগুলোর বিষয়ে গত ২৩ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল: ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রত্যেক জেলার জেলা ও দায়রা জজকে এবং মহানগর এলাকার মহানগর দায়রা জজকে ছুটিকালীন সময়ে তার সুবিধা মতো প্রতি সপ্তাহে যেকোনো দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির নিমিত্ত সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। আর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিজে অথবা তার নিয়ন্ত্রণাধীন এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা ছুটিকালীন সময়ে তার বা তাদের সুবিধামতো প্রতি সপ্তাহের যে কোনো দুই দিন কঠোরভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে জরুরি জামিন শুনানির (কারাগারে থাকা হাজতে আসামির আবেদনসহ) নিমিত্ত সীমিত আকারে আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’’

বিজ্ঞাপন

অধস্তন আদালত সংক্রান্ত সেদিনের বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছিল, ‘যে সকল ফৌজদারি মামলায় আসামীকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত জামিন প্রদান করা হয়েছে বা যে সকল মামলায় উচ্চ আদালত হতে অধস্তন আদালতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের শর্তে জামিন প্রদান করা হয়েছে বা যে সকল মামলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা/ স্থিতাবস্থার আদেশ প্রদান করা হয়েছে সে সকল মামলার আদেশের কার্যকারিতা আদালত খোলার তারিখ হতে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত হয়েছে মর্মে গণ্য হবে। ছুটিকালীন সময় উক্ত মামলা সমূহের বিষয়ে কোনো আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে না। এছাড়া একটি মামলার জামিন শুনানিতে কেবলমাত্র একজন বিজ্ঞ আইনজীবী অংশগ্রহণ করবেন। আদালত প্রাঙ্গণ এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্বের নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে অনুসরণ করা না হলে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে। আর আদালত প্রাঙ্গণে এবং এজলাস কক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়ে স্ব স্ব আইনজীবী সমিতির বিজ্ঞ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনাক্রমে জেলা ও দায়রা জজ/ মহানগর দায়রা জজ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন। এছাড়া গত ২৩ এপ্রিলের ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছিল, ‘জামিন শুনানিকালে কারাগারে থাকা আসামিদের কারাগার হতে প্রিজনভ্যানে বা অন্য কোনোভাবে আদালত প্রাঙ্গণে হাজির না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।’

তবে স্বল্প পরিসরে আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত স্থগিত বিষয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উপর্যুক্ত বিষয় নির্দেশিত হয়ে জানানো যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাথে আলোচনা করতঃ এবং অন্যান্য বিজ্ঞ আইনজীবীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে অনিবার্য কারণবশত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ২৩ এপ্রিল তারিখের বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।’

এছাড়া অধস্তন আদালতের বিষয়ে আজ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতি এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে জেলা জজ ও দায়রা জজ/ মহানগর দায়রা জজ এবং চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত /চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম সপ্তাহে দুইদিন পরিচালনা সংক্রান্ত আদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ঢাকা জেলা আইনজীবী সমিতি এবং চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতিসহ সাধারণ বিজ্ঞ আইনজীবীগন বর্ণিত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতঃ আদালতের কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করেন। এরপর এবিষয়ে প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সাথে আলোচনা করেছেন।

এমতাবস্থায়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক গত ২৩ এপ্রিল তারিখে বর্ণিত জেলা জজ ও দায়রা জজ/ মহানগর দায়রা জজ এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত /চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম সপ্তাহে দুইদিন পরিচালনা সংক্রান্ত আদেশর কার্যকারিতা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।’

অন্যদিকে শনিবার দেয়া আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিচারপতিদের অংশগ্রহণে আগামী ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ফুলকোর্ট সভা অনুষ্ঠিত হবে।