চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্বপ্নের ফেরিওয়ালাদের অভিবাদন

গত প্রায় ৯ বছর ধরে রাজধানীর দুঃস্থ-সুবিধাবঞ্চিত অসংখ্য পথশিশুর শিক্ষাসহ নানা সেবা দিয়ে যাচ্ছে ‘পুষ্পকলি স্কুল’। মিরপুরের ১৪ নম্বর সেকশনের কালশি এলাকায় অবস্থিত অবৈতনিক এ স্কুলটি পরিচালনা করছে অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘সম্ভাবনা’। বর্তমানে স্কুলটির শিক্ষার্থী সংখ্যা ১২০ জন।

এমন সুন্দর ও শুভ উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন কয়েকজন আলোকিত মানুষ। তাদের আন্তরিক ও নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিচ্ছেন আরও কিছু ভালো মনের মানুষের আর্থিক সাহায্য। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্বপ্নপূরণের পথে একটু একটু করে এগিয়ে যাচ্ছে। ‘পুষ্পকলি স্কুল’ নিয়ে বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করেছে চ্যানেল আই অনলাইন

বিজ্ঞাপন

প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, ২০১১ সালে মিরপুর স্টেডিয়ামের পাশে পথশিশুদের নিয়ে প্রথম কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। পরে পরিসর বেড়ে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে শুরু হয় আরও কিছু পথশিশুদের লেখাপড়া শেখানোর কাজ। সবশেষ ২০১৬ সাল থেকে মিরপুরের কালশিতে বস্তির শিশুদের শিক্ষাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, এসব শিশুদের মায়েদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে আছে ‘অনিন্দিত নারী’ নামে একটি প্রকল্প। নানা রকম হাতের কাজ শিখে তারাও এখন অভাবের সংসারে অবদান রাখতে পারছেন।

পথশিশুদের নিয়ে এমন উদ্যোগের তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা মুসফিকা জান্নাত নিশাত, আরিফুল ইসলাম এবং রবিউল ইসলাম। যাদের স্বপ্নই আজ বাস্তব। তবে তাদের এই স্বপ্নপূরণের সারথী হয়েছেন স্কুল শিক্ষক ফাতিমা শারমীনসহ আরও কিছু উদারমনা মানুষ। এই শিক্ষক প্রতিবছর কমপক্ষে ২০ শিক্ষার্থীর জামা-কাপড়, বই-খাতার খরচ বহন করেন। প্রতিদিন পাঁচ থেকে দশ জন শিক্ষার্থীর নাস্তার টাকাও দেন তিনি।

আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি, ফাতিমা শারমীন কিংবা এই ‘পুষ্পকলি স্কুলে’র উদ্যোক্তাদের মতো আরও কিছু মানুষ এগিয়ে এলে অসহায় শিশুদের আশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবন আর্থিক সঙ্কট থেকে মুক্ত হবে। যদিও বাস্তবতা ভিন্ন। কেননা এদেশে অসংখ্য কোটিপতি, শিল্পপতি, উদ্যোক্তা থাকলেও এসব শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, তেমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না বললেই চলে।

আমরা মনে করি, এমন উদ্যোগ অনুকরণীয়। এ দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষপটে এই ধরনের প্রচেষ্টাই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আলোরপথে নিয়ে যেতে পারে। যারা এমন উদ্যোগের সাথে আছেন, তাদেরকে অভিবাদন।