চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্কুলপর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটির ঘোষণা, ছাত্র শিবির ও কিছু কথা

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্কুলে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে, যদিও দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইসলামী ছাত্র শিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের স্কুল কার্যক্রম রয়েছে।

সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রবাসী গবেষক মঞ্জুরে খোদা টরিক ফেসবুকে স্কুল পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটির ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ছাত্র শিবিরের কর্মকাণ্ড ও ছাত্র রাজনীতির বিষয়ে কিছু কথা লিখেছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি লিখেছেন:  স্কুল পর্যায়ে ছাত্রলীগের কমিটি করা প্রসঙ্গে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে ফের যে আলোচনা সামনে এসেছে, তা হলো স্কুল পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি থাকা উচিত, কি উচিত না? স্কুলে ছাত্র রাজনীতি থাকবে কি থাকবে না, সেটা নিয়ে’ “হ্যাঁ বা না” বলার আগে আমি সুধী সমাজকে কয়েকটা বিষয় ভাবতে বলি..!

১. বাংলাদেশের স্কুলেগুলোতে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও সংগঠন আছে! এবং তাদের সাংগঠনিক শক্তি, শৃঙ্খলা, যোগাযোগের কাছে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ সকল ছাত্র সংগঠনেরও উল্লেখযোগ্য কোন অবস্থানই নেই! এমন শিক্ষিত মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে যে স্কুলজীবনে ছাত্র শিবির, এসো শান্তির পথে, এসো আলোর’ এই দাওয়াত পায়নি..!

বিজ্ঞাপন

২. বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোতে দেশের মূলধারার কোন ছাত্র সংগঠন করার সুযোগ নেই! কিন্তু এখানকার সকল ছাত্র, কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন হেফাজত ইসলাম, আহলে হাদিস, ইসলামী শাসনতন্ত্রসহ ইত্যাদি সংগঠনের সাথে যুক্ত! এবং দেশের একতৃতীয়াংশ ছেলেমেয়ে এখানে লেখাপড়া করে! হেফাজতের মিছিল ও জমায়েত গুলো লক্ষ্য করে দেখবেন, তাদের মূল জমায়েতই এইসব কওমী মাদ্রাসার শিশু-কিশোররা!

৩. স্কুলকে যদি প্রকৃতই ছাত্র সংগঠন ও রাজনীতি মুক্ত রাখতে চান তাহলে/প্রথমে এই ইসালামের নামে রাজনীতি, সমাজের তাদের প্রভাব, ক্ষমতা দখলের গোপন অভিসন্ধি-পরিধি সম্পর্কে আগে জানুন তারপর এ বিষয়ে কথা বলুন!

৪. ছাত্রলীগ, ছাত্রদলের ভালমন্দ খুবই দৃশ্যমান! কিন্তু একবার কি বাংলাদেশে তালেবান, আইসিস, আলকায়দা, বকোহারামের নৃসংশতা-ভয়াবহতা কল্পনা করেছেন..? তারা তাদের পুরানো এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে গোপন নকশায়! হলি আর্টিজান, অভিজিৎ, উদীচী, ছায়ানট কি ভুল গেলেন?

৫. স্কুল পর্যায়ে ছাত্র রাজনীতি থাকবে’ কি থাকবে না, তার আগে উল্লেখিত বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। স্কুলকেন্দ্রীক শিক্ষক, দলবাজী-রাজনীতি থাকবে কি’না সে বিষয়ে কথা বলতে হবে। তারপর শিক্ষিত ভাইদের সাথে আমিও সুর মিলিয়ে বলব, স্কুল হচ্ছে লেখাপড়া, জ্ঞানঅর্জন, খেলাধূলা, সাহিত্য-সংস্কৃতির জায়গা, দলাদলির জায়গা না..!