চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

স্কুলের নামে বাসা নিয়ে তেরো সন্তানকে নির্যাতন করেন টারপিন দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বাড়িতে তেরো সন্তানকে নির্যাতন ও শেকল বেঁধে রাখার ঘটনায় পুলিশ জানিয়েছে, বাড়িটি নিবন্ধিত ছিল একটি স্কুল হিসেবে। আর স্কুলের অধ্যক্ষ ছিলেন ওই তেরো জনের বাবা ডেভিড অ্যালেন টারপিন।

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পাবলিক রেকর্ড অনুসারে, ক্যালিফোর্নিয়া শিক্ষা বিভাগের ডিরেক্টরিতে লস অ্যাঞ্জেলেসের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পেরিস শহরের ওই বাড়িটির নাম ‘স্যান্ডক্যাসেল ডে স্কুল’। স্কুলটির অধ্যক্ষের জায়গায় ডেভিডের নাম লেখা। দাপ্তরিক নিবন্ধনপত্রে একে একটি ধর্মশিক্ষা দেয়া হয় না এমন একটি কো-এজুকেশনভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। স্কুলটির শিক্ষার্থী সংখ্যা লেখা রয়েছে ৬ জন।

পুলিশ জানায়, টারপিন দম্পতি ২০১৪ সালে ওই বাসায় এসে ওঠেন। কোনো সন্তানকেই তারা কোনো স্কুলে ভর্তি করাননি। ঘরেই তাদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানানো হয়েছে।

বাড়িটি থেকে দুই থেকে ২৯ বছর বয়সী তেরো ভাইবোনকে উদ্ধার করার পর দ্রুত নিকটস্থ করোনা রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেয়ার পর পরীক্ষা করে চিকিৎসক মার্ক উফার বিবিসি’কে জানান, তাদের কারও মাঝে যৌন নির্যাতন বা মানসিক অসুস্থতার আলামত এখনো পাওয়া যায়নি। তবে প্রাপ্তবয়স্ক সাতজনসহ প্রত্যেকেই তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।

২০১১ সালে দেউলিয়া মামলায় পড়েছিলেন ডেভিড ও লুইস অ্যানা টারপিন। ওই সময় তাদের পক্ষে থাকা আইনজীবী ইভান ট্রাহান লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস’কে জানান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কনট্রাক্টর কোম্পানি নরথ্রপ গ্রুম্যান-এ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করে ডেভিড যথেষ্ট অর্থ কামাতেন।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১১ সালে ডেভিডের বাৎসরিক আয় ছিল প্রায় দেড় লাখ মার্কিন ডলার। কিন্তু বিশাল পরিবারের পেছনে তার প্রতি মাসের বেতনের চেয়েও এক হাজার ডলারের বেশি খরচ হতো।টারপিন-ক্যালিফোর্নিয়া-তেরো সন্তানকে বন্দী করে নির্যাতন

বিজ্ঞাপন

টারপিন দম্পতির প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই তেরো ছেলেমেয়েকে দুয়েকবার ছাড়া কখনোই বাইরে দেখেননি। এমনকি ছেলেমেয়েদের দাদা-দাদি, নানা-নানিও গত চার-পাঁচ বছরে তাদের একটি বারের জন্য তাদের দেখেননি বলে অভিযোগ করেছেন।

অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে টারপিন দম্পতির বাচ্চাকাচ্চাসহ অসংখ্য ছবি ও ভিডিও রয়েছে, যেখানে তাদেরকে একটি বড় আকারের সুখী পরিবার বলেই মনে হয়।

রিভারসাইড শেরিফ’স ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, আটকে রাখা ছেলেমেয়েদের মধ্যে সতেরো বছর বয়সী একটি মেয়ে স্থানীয় সময় রোববার সকালে পালিয়ে বের হতে সফল হয়। মেয়েটি খাবারের অভাবে অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং খুবই ক্ষীণকায় অবস্থায় ছিল বলে জানায় পুলিশ।টারপিন-ক্যালিফোর্নিয়া-তেরো সন্তানকে বন্দী করে নির্যাতন

বের হওয়ার পর মেয়েটি বাসার ভেতরেই খুঁজে পাওয়া একটি সেলফোন থেকে পুলিশের জরুরি সহায়তা নম্বরে কল করে দাবি করে, তার বাবা-মা বাড়ির ভেতর তার আরও বারো ভাইবোনকে বন্দী করে রেখেছেন।

খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করার জন্য ওই বাড়িতে ছুটে যায় পুলিশ। তাদের উদ্ধারের পর পুলিশ জানায়, সেখানে আটকে থাকা তেরো জনই অপুষ্টিতে ভুগছে। তাদের অনেককেই তখন শেকল আর তালা দিয়ে বেঁধে নোংরা অন্ধকার ঘরে বন্দী অবস্থায় পাওয়া যায়। তাদের শরীরও খুব নোংরা অবস্থায় ছিল।

পুলিশ প্রধান ক্যাপ্টেন গ্রেগ ফেলোজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, উদ্ধার অভিযানের সময় তিনজনকে শেকল বাঁধা অবস্থা পাওয়া যায়। আটকে রাখা ছেলেমেয়েরা এতটাই অপুষ্টিতে ভুগছিল যে পালিয়ে বের হওয়া ১৭ বছর বয়সী মেয়েটিকে দেখতে ১০ বছরের বাচ্চা মনে হচ্ছিল।

ডেভিড ও লুইসের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও শিশুদের জীবন বিপদগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন