চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুপ্রিম কোর্টে মতিন খসরুর জানাজা

কঠোর লকডাউনের মধ্যেও শত-শত আইনজীবীর অংশগ্রহণে বৃহস্পতিবার সকালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে সমিতির প্রয়াত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সবেক আইনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু (এমপি) এর জানাজায় অংশ নেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ আইনজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

জানাজা শুরুর আগে বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চান আব্দুল মতিন খসরুর ছেলে মুনায়েম ওয়াসিফ।

জানাজা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন খসরুর কফিনে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের পক্ষে তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সেসময় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে আব্দুল মতিন খসরুর কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এসময় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কল্যাণে প্রয়াত সভাপতি আব্দুল মতিন খসরুর কিছু স্বপ্ন ছিল। আশাকরি সমিতির প্রতিটি সদস্য তাদের সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে তার সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাবেন।’

বিজ্ঞাপন

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সকাল ১১ টায় আব্দুল মতিন খসরুর মরদেহ বহনকারী গাড়িটি কুমিল্লার উদ্দেশে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে। সেখানে কয়েক দফা জানাজার পর নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রয়াত এই সভাপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা না করার কথা সকালেই সবাইকে অবহিত করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। সে অনুযায়ী আজ সুপ্রিম কোর্ট বসেনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার বিকালে মারা যান সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু।

গত ১৬ মার্চ আব্দুল মতিন খসরুর করোনা পজিটিভ আসে। এরপর তাকে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে গত ১ এপ্রিল আব্দুল মতিন খসরুর করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে। এরপর ৩ এপ্রিল আইসিইউ থেকে তাকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং পরে ১২ এপ্রিল তাকে লাইফ সাপোর্ট নেয়া হয়।

আব্দুল মতিন খসরু ১৯৫০ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মিরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মো. আবদুল মালেক এবং মাতা জাহানারা বেগম। আব্দুল মতিন খসরু এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ১৯৭৮ সালে কুমিল্লা জজকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন আব্দুল মতিন খসরু। এরপর ১৯৮২ সাল থেকে তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত হন। এরমাঝে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং কুমিল্লা জেলার অবিভক্ত বুডিচং থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

একপর্যায়ে আইন পেশার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির সাথে জড়িত হন আব্দুল মতিন খসরু। তিনি বর্তমান জাতীয় সংসদ-সহ মোট ৫ বার  সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ছিলেন দেশের আইনমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মতিন খসরু সর্বশেষ ২০২১-২২ মেয়াদের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন।