চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুন্দর পৃথিবীর জয়গান

ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকার পারফরমেন্স এবং ভিজ্যুয়াল আর্ট বিভাগ প্রতি বছরই আয়োজন করে মঞ্চ নাটকের। সে ধারাবাহিকতায় এবার তারা প্রস্তুতি নিয়েছিল সি এস লুইস-এর বিখ্যাত ‘দ্য লায়ন, দ্য হুইচ এন্ড দ্য ওয়ার্ডড্রপ’ এর কাহিনি অবলম্বনে নাটক মঞ্চস্থ করার। ‘ইন টু দ্য ওয়ার্ডড্রপ’ নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছিলেন এলমা আমান।

ইন্টারন্যাশনাল স্কুল-এর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ নাটকে অভিনয় করেন। আসলান চরিত্রটি সমস্ত ভালো আর সুন্দরের প্রতীক যে নার্নিয়া-তে নিয়ে আসতে চায় শান্তি। অন্য দিকে হোয়াইট হুইচ ধ্বংস আর অশান্তির রাজ্য কায়েম করতে চায়। এই দ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায় নাটকটি, অবশেষে জয় হয় সুন্দরের।

নির্দেশক তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা বেশ কয়েক মাস ধরে প্রস্তুতি নিয়েছি এ নাটকের। বাচ্চাদের বোঝানো, চরিত্রের জন্য প্রস্তুত করা কঠিন কাজ তো বটেই। কিন্তু প্রতিটি বাচ্চা এবং তাদের অভিভাবক যেভাবে সাহায্য করেছেন, পাশে থেকেছেন তা ভালোলাগার মতো ব্যাপার। তাছাড়া আমাদের নাটকের শিক্ষকেরা, সংগীত বিভাগ, আলো-পোষাক পরিচ্ছদ সমস্ত যারা দেখেছেন, ডিজাইন করেছেন নাটকের আমেজ বুঝে নিয়ে তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।

হোয়াইট হুচ-এর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইসা চৌধুরী। রাইসা বাংলাদেশের মেয়ে, দশম শ্রেণিতে পড়ছেন। তার কাছে এ চরিত্র নেতিবাচক হওয়া সত্ত্বেও কী করে সেই নেতিবাচকতা ফুটিয়ে তোলা যায় সেটুকুই ভালো লাগার বিষয় ছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেভাবে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, উচ্চবিত্ত শ্রেণি আর নিম্নবিত্ত শ্রেণি আছে, যেভাবে গরিব যারা তারা বঞ্চনার শিকার হয় এসমস্তের সাথে এই যে হোয়াইট হুইচ অন্যদের নির্যাতন করে তার মিল খুঁজে পাই আমি। আমার মনে হয় সব কিছু সুন্দর হবে যদি আমরা সবাই মিলে মিশে থাকতে পারি। আমাদের দেশ থেকে অনেকেই বাইরে চলে যায় ভালো থাকার জন্য, এই নাটকেও বাচ্চারা ভালো পরিবেশের জন্য বাইরে পাড়ি জমায়। এই নাটক বিদেশি ভাষার হলেও এসমস্ত মিল আমি খুঁজে পাই বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে।

বিদেশি শিক্ষার্থী টাডিওয়া মুতাসা অভিনয় করেছেন পিটার-এর চরিত্রে। যে সুন্দর আর ভালোর জন্য যুদ্ধ করে। নাটকটি নিয়ে তার ভাষ্য, প্রথমে আমার কষ্ট হচ্ছিলো চরিত্রটি নিজের মধ্যে ধারণ করতে, সংলাপ ভুলে যাচ্ছিলাম। আমরা নিজেরা হাসাহাসি করছিলাম যে আমরা পেরে উঠছি না কিছুতেই, হতাশ হচ্ছিলাম। কিন্তু যত শো-এর তারিখ এগিয়ে এলো মহড়ার মাধ্যমে সেসব আমি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আর এই নাটকের কালার থিম আমার খুব পছন্দ। সবাই এক টুকরো সোনালী রঙ ধারণ করে ছিলাম পোষাকে, এটা আমার ভালো লেগেছিল।

শেয়ার করুন: