চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য চায় পুলিশ, বাড়াবাড়ি হচ্ছে দাবি প্রক্টরের

Advertisement

বর্ষবরণের দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে নারী নিগ্রহের ঘটনার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কেনো সময়মতো এগিয়ে আসেননি সে বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে তদন্ত কমিটির প্রধান কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেছেন, কেউ যদি সুনির্দিষ্ট নাম-ধাম না নিয়ে আসেন তা হলে তারা কিভাবে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবেন!

পুলিশের ভূমিকা আর ঘটনার বিস্তারিত জানতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে গঠিত ৩ সদস্যের কমিটি দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেদিনের ঘটনার ব্যাপারে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে ।

অার প্রাথমিক তদন্তে কমিটি শাহবাগ থানার কমান্ড সার্টিফিকেট থেকে তারা জানতে পেরেছে, ঘটনার সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে একজন সহকারি পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে দুই প্লাটুন সশস্ত্র পুলিশের দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়ে কাছেই অবস্থান নেয়ার কথা ছিল পুলিশের আরও এক সহকারি কমিশনার শামসুল আরেফিনের । এছাড়াও আপদকালিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জসীমউদ্দীনের নেতৃত্বে আরও দুই প্লাটুন পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

ঘটনার সময় তারা কোথায় ছিলেন, থাকলে ওই সময় তারা কেনো এগিয়ে আসেননি, তা জানার চেষ্টা করছে তদন্ত কমিটি।

পাশাপাশি প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে তা স্থগিত হয়ে যায়।

দায়িত্বহীনতার অভিযোগে রোববার সকালে শাহবাগ থানার এসআই আশরাফুলকে রমনা অপরাধ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে  ডেকে আনা হয়। কিন্তু তদন্ত চলাকালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিধিসম্মত নয় বলে তাকে ক্লোজ না করে শাহবাগ থানার দায়িত্ব পালন থেকে সাময়িক বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।

গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘটনাস্থলে গিয়ে পহেলা বৈশাখে যৌন হয়রানির ঘটনায় কিছু সংবাদ মাধ্যমে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ এনেছে তদন্ত কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডিএমপি’র অতিরিক্তি কমিশনার ইব্রাহিম  ফাতমী বলেছেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দৃশ্য পত্র-পত্রিকায় এসেছে। উদ্যানের গেটের কাছে ওইদিনের ঘটনার সঙ্গে ওই ছবির কোন সামঞ্জস্য ছিল না। এ বিষয়গুলোও তদন্ত প্রতিবেদনে নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাউ উইল উই ডিটেক্ট: কমিশনার

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সেদিনের ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে সনাক্ত করতে পারলেও এখনও তাদের নাম-পরিচয় জানতে পারেনি পুলিশ। নিগ্রহের শিকার কারো সঙ্গেও তারা কথা বলতে পারেননি বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া।

ডিএমপি সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন: স্পেসিফিক (সুনির্দিষ্ট) কারো নাম কি (আপনারা) জানেন? কাউকে চেনেন? না। কোনো ভিকটিমের নাম জানেন? না। তা হলে হাউ উইল উই ডিটেক্ট!

দায়ীদের সনাক্ত করতে তিনি তাই সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

সনাক্তরা কেউ ঢা.বি. ছাত্র নয়: প্রক্টর

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ যে চারজনকে সনাক্ত করেছে তারা কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নয় বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশের তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলে প্রক্টর আমজাদ হোসেন বলেছেন, জড়িতরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হতো তাহলে এতদিন তাদের সম্পর্কে তথ্য তার  কাছে চলে আসত। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেয়া হত।

‘যে মাত্রায় বলা হচ্ছে, ভুল ছবি দিয়ে যেভাবে প্রচার চালানো হচ্ছে বিষয়টি সেরকম নয়’ বলেও দাবি করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।

বিএনসিসির কেউ দেখেনি!

পহেলা বৈশাখে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পালন করছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর, বিএনসিসির ১২৫ জন সদস্য।

প্রক্টরের দাবি, স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা ওই বিএনসিসি সদস্যরা সবাই লিখিতভাবে জানিয়েছে, বর্ষবরণে ওই এলাকায় নারী নিগ্রহের ঘটনা তাদের চোখে পড়েনি।

তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মঙ্গল শোভাযাত্রার পর বিএনসিসি সদস্যদের দেখা যায়নি। এরকম একজন প্রত্যক্ষদর্শী লিটন নন্দী। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি। ওইদিন তিনি তার সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। দু’জনকে ধরে তারা পুলিশের কাছে তুলেও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরে ওই দু’ জনকে আর পাওয়া যায়নি।

তিনি আজ তদন্ত কমিটির সামনে তার বক্তব্য তুলে ধরতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, তার বক্তব্য তারা পরে শুনবেন।