চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সুদানে সেনা অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ক্ষমতাচ্যুত

সুদানে দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করে আটক করা হয়েছে।

দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আওয়াদ মোহাম্মেদ আহমেদ ইবনে আউফ বিবিসি’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে আগামী ২ বছর সেনাবাহিনী দেশটি পরিচালনা করবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া আগামী তিন মাস দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি থাকবে বলেও ওই ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়।

১৯৮৯ সাল থেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন ওমর আল-বশির। ৭৫ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করা ছাড়াও আগামী ২ বছর কীভাবে দেশটি পরিচালিত হবে, তার ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী খার্তুমে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, সুদান অনেক দিন ধরে দুর্নীতি, বিচারহীনতা এবং খারাপ ব্যবস্থাপনায় ভুগছিলো।

তিনি আরো বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য সুদানের আকাশপথ বন্ধ থাকবে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সকল সীমান্ত বন্ধ থাকবে এবং দেশটির সংবিধান স্থগিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বশিরের পদচ্যুত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে হাজারো জনতা। তারা বশিরকে পদচ্যুত করার উৎসব করতে থাকেন সেনা সদস্যদের সঙ্গেই। রাজধানী খার্তুমে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে সেনা সদস্যদের উৎসব করতে দেখা যায়।

তবে সুদানের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানা বলে, সুদানের সকল রাজনৈতিক কারাবন্দীকে মুক্ত দেয়া হবে।

তবে বশির কোথায় আটক আছে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

২০০৬ সালে শুরু হওয়া বিদ্রোহের সময় সুদানের দারফুর অঞ্চলে গণহত্যার অভিযোগে বশিরকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওই সময়ে আনুমানিক ৩ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

এর আগে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চারপাশে সেনা মোতায়েন করা হয়। টিভি চ্যানেলটিতে বলা হয়, শিগগিরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেবে সশস্ত্র বাহিনী। এর জন্য প্রস্তুত থাকুন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এ ঘোষণার পর দেশটির রেডিও ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বাজানো হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান। তুলে ধরা হচ্ছে সামরিক বাহিনীর বীরত্বগাথা।

প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলনের মধ্যেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।