চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সিনেমার জন্য সারা জীবন লড়ে গেছেন তারেক মাসুদ’

তারেক মাসুদ নেই ৮ বছর। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মৃত্যু হয় তাঁর…

তারেক মাসুদ নেই ৮ বছর। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট মৃত্যু হয় তাঁর। একই দিনে দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে ছিলেন দীর্ঘদিনের সহকর্মী বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীর। তাদের দুইজন ছাড়াও আরো ৩ জনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুদিনে তাঁদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎসহ দেশের সমস্ত গণমাধ্যম।

বিশেষ করে আগামী দিনের তরুণ নির্মাতাদের কাছে তারেক মাসুদ এক স্বপ্নের নাম।

বিজ্ঞাপন

চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সংগঠন তার মৃত্যুদিনে প্রতি বছরই আয়োজন করে স্মরণ সভার, কিংবা তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম তারেক মাসুদ। প্রতি বছরই তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে চ্যানেল আই পরিবার। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছর বিভিন্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে।

গেল বছরেও তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চ্যানেল আইয়ে আয়োজন করা হয়েছিলো বিশেষ তারকা কথনের। যেখানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা আবু সাইয়ীদ ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী।

তারেক মাসুদের কাজ কর্মের সাথে নিবির যোগাযোগ ছিলো এই দুই নির্মাতা ও অভিনেত্রীর। নির্মাতা আবু সাইয়ীদ ছোট ভাইয়ের মতো হলেও তারেক মাসুদ তাকে বন্ধুর চোখেই দেখতেন। এমনকি আবু সাইয়ীদ যখন সিনেমা নির্মাণ করেন, তখন তারেক মাসুদ তাকে বিভিন্ন ভাবে সহায়তা করেছিলেন, অনুষ্ঠানে এমনটাই জানিয়েছিলেন আবু সায়ীদ।

তারেক মাসুদের মৃত্যুদিনে নির্মাতা আবু সাইয়ীদ এমন আরো বহু অজানা কথা অকপটে সেদিন বলেছিলেন চ্যানেল আইয়ের দর্শকদের।

কথার ফাঁকে তারেক মাসুদের লড়াকু জীবনের কথাও বলেছিলেন ‘নিরন্তর’ নির্মাতা। বলেছিলেন, এই সময়ে এসে তারেক মাসুদের ব্যক্তিগত স্ট্রাগলের গল্প বলা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ জানি না, তবু বলি। আমরা তখন একসাথে অনেকেই ছিলাম। হোটেল গাবতলী নামে একটা রেস্টুরেন্ট ছিলো। সেখানে আমরা কয়েকজন দুপুরের খাবার খেতাম ১৩ টাকা দিয়ে। এটা ছিলো আমাদের নিয়মিত রুটিন। এরচেয়ে বেশি খরচ করার মতো সামর্থ তখন আমাদের কারো ছিলো না। এখানে যারা ছিলাম তাদের কারোরই কিন্তু আর্থিক দৈন্যতা থাকার কথা ছিলো না। আমরা যদি ফিল্ম বাদ দিয়ে অন্যকিছু করতাম তাহলে এমনটি তখনও কারো হতো না। সিনেমা করবেন বলে এই কৃচ্ছতা সাধন যারা করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে অন্যতম একজন ছিলেন তারেক মাসুদ। অনেক পরে এসে হয়তো ফিল্ম নিয়ে একটু স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছেন, কিন্তু তারেক মাসুদ সারা জীবন স্ট্রাগল করে গেছেন সিনেমার জন্য।

আমেরিকায় বসে আরাম আয়েশে জীবনটা কাটিয়ে দিতে পারতেন তারেক মাসুদ। কিন্তু সিনেমার প্রতি প্রেম থেকে সে পথে না গিয়ে স্ট্রাগলের পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি। এমনটাও বলেন আবু সাইয়ীদ।

মুক্তির গান, মুক্তির কথা, আদম সুরত, মাটির ময়না, অন্তর্যাত্রা ও রানওয়ে-এর মতো ছবি নির্মাণের মাধ্যমে তারেক মাসুদ বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ধারার সূচনা করেছিলেন। প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারে স্থান পেয়েছিল ‘মাটির ময়না’।

Bellow Post-Green View