চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাহেদ-পাপিয়ার আশ্রয়দাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি নানকের

সাহেদ-পাপিয়া’র আশ্রয়-প্রশ্রয় দাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেছেন: সাহেদ-পাপিয়ারা কীভাবে দলে ঢুকে পড়ে? নিশ্চয়ই কোন ফাঁকফোকর আছে? যে নেতার হাত ধরে ঢোকে সেই নেতার হাতকে ভেঙ্গে দিতে হবে। শুধু সাহেদ-পাপিয়াদের হাত ভাঙ্গলে চলবে না, তাদেরকে যারা দরজা দিয়ে ঢুকায় তাদের হাত গুড়িয়ে দিয়ে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হবে। তাদেরকে যারা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত ঈদুল আজহা উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা সাধারণ সম্পাদক কে এম আজম খসরু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর কবির নানক দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন: কোনো হাইব্রিড যেন শ্রমিক লীগের আগামী কেন্দ্রীয় কমিটি ও মহানগর কমিটিতে যেন ঢুকতে না পারে, এ ব্যাপারে সংগঠনের নেতাদের সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।

নানক বলেন: পাপিয়াকে ধরলেই চলবে না। পাপিয়াকে যে ঢুকিয়েছে, যে আশ্রয় দিয়েছে, যে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাকে চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন: আগামীকাল বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হবে। আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে ঈদুল আজহা পালন করবো। কারণ আগামীকাল থেকে শোকের মাস আগস্ট শুরু হবে। এই আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা নির্দেশে সকল কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে, যে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষেরা ঈদ করতে পারছে না, সেই মানুষদেও পাশে দাঁড়াতে হবে। যে মানুষেরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঈদ করতে পারছে না, তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

“তাই সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগস্ট মাসের কর্মসূচি পালন করার আহ্বান জানিয়ে নানক আরও বলেন, কিন্তু এই আগস্ট মাসের নামে কোন চাঁদাবাজি কাউকে করতে দেয়া হবে না। কঠিন ভাবে খেয়াল রাখতে হবে। আগস্ট মাসকে সামনে রেখে কেউ যেন কোন চাঁদাবাজি না করতে পারে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন: আপনারা হলেন এদেশের মেহনতি মানুষের কন্ঠস্বর। মেহনতি মানুষের প্রতীক। আপনাদের মাধ্যমে সারাদেশের মেহনতি মানুষকে জাগ্রত করার জন্য উজ্জীবিত করার জন্য এই করোনাকালীন সময়, বন্যা ও আগামীতেও যদি কোন ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ আসে তাহলে সকল কিছুতেই আপনারা মেহনতি মানুষের আশা আকাঙ্খার স্বপ্ন নিয়ে পাশে থাকবেন। মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করবেন। এটাই আমাদের নেত্রীর আকঙ্খা, এটাই ওনার স্বপ্ন । সেই স্বপ্ন পূরণে আপনারা বলিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন: জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী। ১৬ কোটি মানুষকে তিনি ভালবাসেন। তিনি চান, প্রতিটি মানুষ ভাল থাকুক, সুস্থ থাকুক। কোন একটি প্রাণ যেন অকারণে অথবা কোন অবহেলায় ঝরে না যায়। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার সৈনিক হিসাবে, আমরা জাতির পিতার আদর্শের সন্তান হিসাবে সবসময় মানুষের পাশে আছি, থাকবো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সত্য, ন্যায় দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমরা গঠন করার প্রত্যয় করেন নাছিম।

শেয়ার করুন: