চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সাহেদের অস্ত্র মামলার চার্জশিট আজ: ডিবি

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের অস্ত্র মামলার চার্জশিট আজই আদালতে দাখিল করতে যাচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ বলছে, অস্ত্র মামলায় সাজা নিশ্চিত করতে যে ধরণের তথ্য প্রমাণাদি দরকার আমরা সব কিছুর সত্যতা নিশ্চিত করেছি এবং তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন আদালত বিচার করে এর রায় দেবেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন।

তিনি বলেন, ‘রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের একটি অস্ত্র মামলার আমরা তদন্ত শেষ করেছি। দু্‌ইজন স্বাক্ষীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। এবং তদন্ত শেষে এ মামলার চার্জশিট আমরা আজই দাখিল করতে যাচ্ছি।’

বাতেন বলেন, ‘সাহেদ যখন আমাদের রিমান্ডে ছিল, তখন তার ভাষ্যমতে তার ব্যবহার করা গাড়িটি আমরা জব্দ করি এবং গাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র জব্দ করি। সেই অস্ত্র মামলায় আমরা আজকেই চার্জশিট দাখিল করতে যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘দুইজন প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী যারা দেখেছে তাদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। মামলা তদন্তের জন্য যে ধরণের স্বাক্ষী প্রয়োজন সে ধরণের স্বাক্ষী আমরা আমাদের তদন্তে চার্জশিট ও মামলার ডকেটে সব উপস্থাপন করেছি। এ ধরণের মামলায় সাজা নিশ্চিত করতে যে ধরণের তথ্য প্রমাণাদি দরকার আমরা সব কিছুর সত্যতা নিশ্চিত করেছি এবং তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন আদালত বিচার করে এর রায় দিবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, ‘‘অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে ১৫ দিনের বাধ্যকতা রয়েছে, আমরা এর মধ্যেই করেছি। অস্ত্র পজিশনে পাওয়া গেলে সেটা দণ্ডনীয় অপরাধ, সেটা তিনি যদি অস্ত্র ব্যবহার নাও করে থাকেন। ব্যালেস্টিক অস্ত্র প্রমাণ করার কোনো উপাদান সেখানে ছিল না। অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে আইন এটাই বলে যে, পজিশন এবং নলেজ এই দুইটা যদি আপনি নিশ্চিত করেতে পারেন, কোন ব্যক্তি অস্ত্র পজিশন রেখেছে এবং তার নলেজে ছিল।’’

গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হয়। মামলার ২ নম্বর আসামি মাসুদ পারভেজকে গাজীপুর থেকে গত ১৪ জুলাই গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এর আগে গত ৬ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় অভিযান চালায় র‌্যাব। অভিযানে ভুয়া করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

পরদিন ৭ জুলাই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সাহেদের প্রতারণার মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব।