চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সালিসের ‘সুযোগে’ বিয়ে: সেই চেয়ারম্যানকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত স্থগিত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট।

সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ওই চেয়ারম্যানের করা রিটের শুনানি নিয়ে বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আগামি ১ মাস বা নিয়মিত আদালত খোলা পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ দিয়ে আদালত বলেছেন, ‘চেয়ারম্যানের অভিযোগ বিষয়ে অনুসন্ধান বা তদন্তের কাজ চলতে বাধা থাকবে না।’ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শফিক আহমেদ ও ইউসুফ হোসেন হুমায়ূন। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বিপুল বাগমার।

বিজ্ঞাপন

এর আগে সালিসের ‘সুযোগে’ কিশোরীকে বিয়ের ঘটনার পর চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না সে বিষয়ে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগ জবাব পাঠাতে বলা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরে হাইকোর্টে রিট করে শাহিন হাওলাদার।

আলোচিত ওই বিয়ের ঘটনায় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় ‘প্রেমের টানে এক তরুণের হাত ধরে বাড়ি ছেড়েছিল ওই কিশোরী। বিষয়টি জানার পর কিশোরীর বাবা নালিশ দিয়েছিলেন চেয়ারম্যানের কাছে। চেয়ারম্যান সালিসে বসার পর মেয়েটিকে পছন্দ হয়ে যায়। পরে তিনি ওই কিশোরীকে (১৪) বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরদিনই অষ্টম শ্রেণির সেই কিশোরী (১৪) তালাক দিয়েছেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে (৬০)। যিনি বিয়ে পড়িয়েছেন তাঁর মাধ্যমে শনিবার সন্ধ্যার দিকে চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে পরিবারের কাছে ফেরে ওই কিশোরী।’

কিশোরীকে বিয়ের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন গত ২৭ জুন হাইকোর্টের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমাতুল করিম ও একরামুল হক টুটুল। এরপর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এবিষয়ে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ আদেশ দেন। হাইকোর্ট তার আদেশে চেয়ারম্যানের বিয়ের ওই ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সেক্ষেত্রে অপরাধের প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সেই সাথে পটুয়াখালীর পুলিশ সুপারকে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা দিতে বলা হয়।

বিজ্ঞাপন