চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘সবাই আখের গোছানোর চিন্তায় থাকলে সিনেমায় উন্নয়ন হবে না’

একের পর এক সিনেমা করে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, গত এক দশকে ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় আসা সবচেয়ে সম্ভাবনাময় নায়ক তিনি! এজন্য হয়তো প্রযোজক-পরিচালকের ঝোঁক সিয়ামের দিকে।

মুক্তির অপেক্ষায় সিয়ামের বড় বাজেটের সিনেমা ‘শান’, ‘অপারেশন সুন্দরবন’ এবং ওটিটির জন্য নির্মিত ওয়েব ফিল্ম ‘মরীচিকা’। সম্প্রতি শুটিং শেষ করলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত রায়হান রাফী পরিচালিত ‘দামাল’। এসব কিছু নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বললেন সিয়াম…

দামালের শুটিং শেষ। কেমন হলো? অভিজ্ঞতাই বা কেমন?
শুটিং কেমন হয়েছে পরিচালক ভালো বলতে পারবেন। আমি শুধু পরিশ্রম করেছি। সঙ্গে পুরো টিম পরিশ্রম করেছে। সকাল সাড়ে সাতটায় ক্যামেরা চালু হতো। এই গরমে দুপুর ১২ টায় মাথার উপর সূর্যে সবাই যখন এসির মধ্যে থাকে সেই সময়ে আমরা মাঠে ফুটবল খেলেছি। তার আগে রিহার্সেল করেছি। শেষ লটে ছয়দিন শুটিং করেছি। তার আগে অনুশীলনের জন্য এক সপ্তাহ দিতে হয়েছে। আগের লটের জন্য দুই সপ্তাহ অনুশীলন করেছি। ‘দামাল’ করতে গিয়ে যারা ফুটবল খেলেন, তাদের সবার জন্য শ্রদ্ধা বেড়েছে। এই খেলাটা খুব সোজা না। অবশ্যই কাজটা আমাদের জন্য কঠিন ছিল ও ব্যয়বহুল বটে। এখানে সিজি’র অনেক খরচ আছে। সময়ও লাগবে। পিরিয়ডিক্যাল সিনেমা বানানো অনেক কঠিন। সবে শুটিং শেষ করলাম। সিজি ও পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ চলবে।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

দহন, শান, অপারেশন সুন্দরবন- আপনার প্রতিটি সিনেমায় অন্যরকম পরিশ্রমের গল্প থাকে। ‘দামাল’-এর জন্য পরিশ্রমটা কেমন ছিলো?
প্রতিটি কাজে একটু বেশি পরিশ্রম এবং চেষ্টা থাকে। অসম্ভব কিছু করার ইচ্ছে থাকে যাতে দর্শক নতুন কিছু পান। ‘অপারেশন সুন্দরবন’ করতে গিয়ে মনে হয়েছিল, জীবনে এত পরিশ্রম করিনি। দামালে এসে মনে হয়েছে আরও বেশি শ্রম দিয়েছি। সামনের কাজগুলোতে হয়তো আরও পরিশ্রম থাকবে। একজন অভিনেতার কাজের প্রক্রিয়া এটাই হওয়া উচিত বলে মনে করি।

বিজ্ঞাপন

‘দামাল’ শুটিং করে ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘দেশপ্রেমটা অন্যভাবে অনুভাব করেছেন’। বিষয়টি কেমন?
শুরুতে বেশি চাপ নেইনি। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সি পরে যখন বুকে হাত দিয়ে পতাকা হাতে মাঠে দাঁড়িয়েছিলাম তখন অন্যরকম লাগছিল। একাত্তর সালের জুন-জুলাই মাসে যখন দেশ স্বাধীন হয়নি তখন প্রথমবারের মতো জাতীয় সংগীত বেজে উঠেছিল ওই সময়টা ধারণের পর কোনো মানুষের সেই অনুভূতিটা কেমন হবে সে-ই শুধু বুঝবে। জাতীয় দলের প্রতিনিধি হয়ে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করার যে গর্ব এটা কথায় বোঝানো যাবে না। পৃথিবীর একমাত্র জাতি আমরা যারা স্বাধীনতার জন্য ফুটবল খেলেছি। ফুটবল খেলে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। সেই গল্পটাই দেখানোর চেষ্টা করেছি।

‘মরীচিকা’র ট্রেলার আপনার তুলনায় আফরান নিশোকে নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। বিষয়টি অনুভব করেছেন?
নিশো ভাইকে ট্রেলারে দেখে আমার নিজের কাছে অনেক পছন্দ হয়েছে। ট্রেলার, গল্প দেখানো প্রক্রিয়া পুরোটাই পরিচালকের পয়েন্ট অব ভিউ। অভিনয় যেহেতু করেছি, আমার চরিত্র জেনেই করেছি। আমি জানি আমার চরিত্র কোনদিকে যাবে, কতটা স্ট্রাগল করবে। তবে নিশো ভাই ট্রিমেনডাস। তাই হাইপ তার দিকে যাবে। এটা নিয়ে সবার খুশী হওয়া উচিত। মানুষ পছন্দ করলে এই প্রজেক্টের জন্যই করবে। যখন কেউ পুরোটা দেখবে তখন সবাই পরিষ্কার বুঝতে পারবে।

করোনার কারণে একের পর এক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ওটিটি প্লাটফর্মগুলো সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। এতে সিনেমার ভবিষ্যতের জন্য করণীয় কী বলে মনে হয় আপনার?
এই সিদ্ধান্তের জন্য পলিসি মেকাররা আছেন। তারা ভালো জানবেন করণীয় কী। তবে এখন সবাই যদি আখের গোছানোর চিন্তায় থাকেন, তাহলে সিনেমায় সামগ্রিক উন্নয়ন হবে না। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেটার উপর ভিত্তি করে। পৃথিবীর সবাইকে সময়ের সঙ্গে চলতে হবে। বিশ্বের যে কাউকে আমাদের সিনেমা দেখতে বললে হাতেগোনা কয়েকটি সিনেমা ছাড়া দেখা যায় না। এখন টিকে থাকার লড়াই। মামা চাচার সম্পর্কের জোরে কয়েকদিন টিকে থাকা যাবে, কিন্তু যোগ্যতা দিয়ে আজীবন টিকে থাকা যাবে। দর্শক যে ধরনের কনটেন্ট দেখতে চায় তেমন না দিতে পারলে দেখবে না। এটা বুঝতে হবে। ওটিটি বা যে কোনো মাধ্যমে কাজ হচ্ছে হোক! এতে করে শিল্পী টেকনিশিয়ানরা কাজ করে খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। সিনেমা হলের জন্য ছাড়া কাজ করবো না, এই ভেবে বসে থাকা যাবে না। হল খোলার পর দর্শক না এলে পরে আবার বিনিয়োগ কে করবে! আমার কথা খুব সোজা, শিল্পী টেকনিশিয়ানদের বাঁচতে হবে। ওটিটিতে কাজ করে যদি টিকে থাকে থাকুক। এখন কেউ বিলাসিতা জীবনযাপন করছি না। সবাই টিকে থাকতে চাইছে/ তাই পলিসি চেইঞ্জ করতে হবে। সিনিয়দের এগিয়ে আসতে হবে। যাদের ফিল্ম থেকে পরিচিতি এসেছে তাদের চেষ্টা করতে হবে। সিনেমা থেকে সর্বোচ্চ নিয়ে কতোজন সিনেমার জন্য কিছু করেছেন? অথবা ক’জন বলেন যে, আমি এখানে অভিনয় করেছি, আমার ছেলে বা মেয়ে ফিল্ম নিয়ে লেখাপড়া করে সে ফিল্ম বানাবে? বলে কেউ? এতো বড় ইন্ডাস্ট্রি সেখানে আমাদের বিশ্বাস কই? বাইরের মানুষ তাহলে কী বিশ্বাস করবে?